ব্রেকিং নিউজ পল্লী বিদ্যুতের বিলে পুরোনো বকেয়ার ছড়াছড়ি; সফটওয়্যার ত্রুটির অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহকবিশ্ব বাবা দিবসে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক শ্রাবণ মাহমুদের আবেগঘন নিবেদনে কবিতা ‘বাবা’ আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা; অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণরাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধারকাঁচা বাঁশ দিয়ে জাম পারতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষকের মৃত্যু

পাহাড়ি ঢলে ফুলে–ফেপে উঠেছে ঝিনাইগাতী উপজেলার দুই নদী, ঝুকিতে হাজারো মানুষ

মো. টুটুল মিয়া
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি :

টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের দুইটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীটির পানি দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি প্রবেশ করেছে।

পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলার বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর সদর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কোথাও কোথাও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি কমে গেলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো বাঁধ ভাঙার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি।’

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লেখক