মোঃ আল-আমিন ইসলাম, কয়রা (খুলনা) ঃ

সুন্দরবনে চরপাটা জাল নিষিদ্ধ করা-সংক্রান্ত বনবিভাগের নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেরা। বুধবার (২৮ ফেব্রয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে কয়রা উপজেলার জেলে বাওয়ালীরা। মানববন্ধনে বনজীবী জেলে সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন কয়রা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এস এম লুৎফর রহমান, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম, মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু সাইদ মোল্যা, ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ, ইউপি সদস্য মুর্শিদা খাতুন, মৎস্য ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হুদা, আমিরুল ইসলাম ,খোদা বক্স গাইন, মোস্তফা সানা, মোল্যা আক্তারুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধনে সুন্দরবনের জেলে মোল্যা আক্তারুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে ঘন ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ। আমরা অবৈধ জাল ব্যবহার না করে বড়ো ফাঁসের চরপাটা জালে মাছ ধরে সংসার চালাই। গত এক সপ্তাহ ধরে বনবিভাগ চরপাটা জালে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। চরপাটা জাল বন্ধ করায় জেলেরা এখন বনে যাচ্ছে না। তাই চরপাটা জালে মাছ ধরার অনুমতি দিয়ে গরিব জেলেদের সুন্দরবনে যাওয়ার সুযোগ দাবী করেন। মোস্তফা সানা বলেন, আইন হলে সকলের জন্য হোক। এখন শুধু খুলনা ও সাতীরা জেলার আওতায় থাকা সুন্দরবনের জেলেদের জন্য চরপাটা বন্ধ হয়েছে। বাকিদের জন্য হয়নি। আমি এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী জানাই। সুন্দরবন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, এক বছর আগে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জেলেদের চরপাটা জাল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ নিষেধাজ্ঞা উপো করে অনেক জেলে গোপনে জাল দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিলেন। গত ২১ ফেব্রয়ারি ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক মিহির কুমার দো বলেন, পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা চরপাটা জাল বন্ধে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন এমনটি শুনেছি। কিন্তু আমাদের বিদ্যমান ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনায় এ ধরনের চরপাটা জলের বিষযয়ে কোন বিধি-নিষেধ নেই। আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ জলের তালিকায় ও চরপাটা জালের উল্লেখ নেই।

আপনি যে খবরগুলো মিস করেছেন