ব্রেকিং নিউজ কয়রায় মোবাইল কোর্টে দুই ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা জরিমানারাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় ১ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড৬ দিনপর ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু, রয়েছে গেছে নাব্যতা সংকটরাজবাড়ীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদাননওগাঁর আত্রাইয়ের পাহাড়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুদের টিকাদান

রাজবাড়ীতে দুইদিন ব্যাপী বাংলা উৎসবের সমাপনী

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দশম বাংলা উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন রাজবাড়ী একাডেমি এই উৎসবের আয়োজন করে।

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন, রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হক। সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি ও সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান। সমাপনী পর্বের আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, সমাজে কখনো একা ভালো থাকা যায় না। সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। আমাদেও যে ভাষা, আমাদেও যে সাহিত্য-সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি আবহমান কাল ধরেই আমাদের মিলেমিশে থাকতে শিখিয়েছে। আমরা যদি আমাদেও সাহিত্যেও দিকে একটু তাকাই তাহলে দেখবো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধনী-দরিদ্র সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে উৎসব, পূজা-পার্বন করেছি। সুখে দুঃখে সবাই একসঙ্গে ছিলাম। এই অনুভূতিটাকে যাতে আমরা মনে রাখি, আমরা যাতে মনে করি এবং আগামী দিনগুলো সুন্দর হয়, সে আহ্বান থাকবে।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন আরও বলেন, আমাদের সন্তানেরা মোবাইল ফোনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। মোবাইল ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায়, খারাপ কাজেও ব্যবহার করা যায়। এখন প্রযুক্তির যুগ, প্রযুক্তির ব্যবহাওে পিছিয়ে থাকাও চলবে না, আবার অপব্যবহার করাও যাবে না।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে রাজবাড়ীতে বাংলা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি হড়াই, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি গড়াই গ্রুপ, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি কুমার গ্রুপে, নবম-এসএসসি পরীক্ষার্থী চন্দনা গ্রুপে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। শনিবার বিকেলে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উৎসবের সমাপনী হবে।

উৎসবে ‘বর্ণ, যুক্তবর্ণ, মাত্রা, বানান সংশোধন, ভুল সংশোধন, বিরাম চিহ্ন, উপসর্গ ও অনুসর্গ, বাগধারা, বিপরীত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, কারক ও বিভক্তি, সন্ধি, সমাস, পদ পরিবর্তন, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, সমোচ্চরিত ভিন্নার্থক শব্দ, একই শব্দের বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ, ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ, অভিধান থেকে শব্দ বের করা, শ্রুতি লিখন, চিত্রাঙ্কন প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রতি বিভাগে শ্রেষ্ঠ তিনজন সহ মোট ১৫জনকে পুরস্কৃত করা হবে। প্রতিজন প্রতিযোগি তিনটির বেশি বিষয়ে অংশ নিতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। উদ্বোধন পর্বে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এনএএম মোমেনুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম শফি।

লেখক