ব্রেকিং নিউজ রাজবাড়ীতে সরকারি কর্মচারী সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতির মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভাআত্রাইয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিতনজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনায় সমাজ গড়ার আহ্বান : কালীগঞ্জে এমপি ফজলুল হক মিলনেরগাজীপুরে তুচ্ছ ঘটনায় বসতঘরে হামলা, আহত ৪কয়রায় সিএসও নেটওয়ার্কের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

কয়রা-পাইকগাছায় জমে উঠছে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই

মোঃ বিএম আলামিন ইসলাম, কয়রা উপজেলা প্রতিনিধিঃ

মাওঃ আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত), মোঃ মনিরুল হাসান বাপ্পি (বিএনপি)।

দিন যত এগিয়ে যাচ্ছে, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ভোটের লড়াই ততই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু দলগুলোর মধ্যে নয়, বরং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় সমর্থকের ওপরও নির্ভর করছে।

ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪। এর মধ্যে নারী নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-৬ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৫২৪, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ২০৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের একজন ভোটার রয়েছেন।

কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে অতীতে বিএনপি সাধারণত জামায়াতে ইসলামীকে আসন ছেড়ে দিত। তবে দীর্ঘদিনের জোট রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলে নির্বাচনি চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এবার পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারজন প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন-বিএনপির মনিরুল হাসান, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলনের আছাদুল্লাহ ফকির এবং সিপিবির প্রবীর কুমার মণ্ডল। একমাত্র পুরোনো প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ, যিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। স্থানীয় ভোটাররা জানান, আসনের জয়-পরাজয় নির্ভর করবে আ.লীগ ও সনাতনধর্মের সমর্থক ভোটারের দিকে। তারা বলেন, যে প্রার্থী আগামী দিনে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাণিজ্য এবং হামলা-মামলা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারবে, তার প্রতি আমাদের ভোট যাবে। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক অথবা কারাগারে। সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও একই অবস্থায় আছেন। এই পরিস্থিতি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও প্রভাবশালী করেছে।

খুলনা-৬ আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ভোটাররা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন তা নির্ভর করবে নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আ.লীগ সমর্থক ও সনাতনধর্মের ভোটের ওপর।

লেখক