রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও রাজবাড়ী সার্কেল এর উদ্যোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেল ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।
সভায় বক্তারা বলেন, কয়েকদিন আগেই দৌলতদিয়া ঘাটে একটি মর্মান্ত্রিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। জীবনের মূল্য কখনো টাকার বিনিময়ে পরিমাপ করা যায় না। আজ যে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে তা শুধুমাত্র পরিবারের পাশে একটু দাড়ানো।
পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় মন্ত্রীরা বলেন, চালক ও বাসের ক্রটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সরকার নানামূখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার কিভাবে এই দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। আমরা চাইনা আর কখনও এধরনের ঘটনা ঘটুক।
‘বিভিন্ন উৎসব ঘিরে পরিবহনের ভাড়ার দ্বিগুন থেকে তিনগুন বেড়ে যায়’ সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রথমত দ্বিগুন তিনগুন ভাড়া বেশি নেওয়া হয় এই অভিযোগের সঙ্গে আমি একমত নয়। আমাদের যে সকল বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে তার ভাড়া সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। নির্ধারিত ভাড়ার বেশি কেউ ভাড়া নেয় না। দুই একটি ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটতে পারে। তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের যাত্রীদের একটি ন্যাচার আছে, তারা বাসস্টবে গিয়ে টিকিটি কেটে সিট নিয়ে বাসে উঠতে অভ্যস্ত নয়। যখন বিভিন্ন গার্মেন্টস ছুটি হয় বা যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তারা শেষ সময়ে লাগিজ নিয়ে যে যেখানেই থাকেন সেখান থেকেই বাসে ওঠেন। স্ট্যান্ডে গিয়ে টিকিট কেটে বাসে ওঠার অপেক্ষা তারা করেন না। একারণে অনেক এসব যাত্রীদের কাছ থেকে অনেক সময় বেশি ভাড়া নেওয়া হয়।
সভা শেষে নিহত ও আহত ৬২টি পরিবারকে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, গুরুত্বর আহত ব্যক্তিকে ৩ লাখ ও সাধারণ আহতদেরকে ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়।