খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রাকে মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে একযোগে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রশাসন ও সুশীল সমাজ।
এরই ধারাবাহিকতায় মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করি, নিরাপদ সমাজ গড়ি—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার মহারাজপুরে এক তথ্যবহুল ও বিশাল সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদ, খুলনার অর্থায়নে কয়রার ৭টি ইউনিয়নে গঠিত বিশেষ আয়োজক কমিটি এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে।
কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তিলোক কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এবং মহারাজপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস একটি প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়, আর বাল্যবিবাহ একজন কন্যার জীবনকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে। কয়রার মাটিতে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই তিন সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রশাসন শতভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য মাদকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃমৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান।
এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে ঝরে পড়া রোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বক্তব্য রাখেন মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কয়রা মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাহবাজ হোসেন কয়রা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও মহারাজপুর ইউনিয়নের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। বক্তারা স্পষ্ট জানান, ভুয়া জন্মনিবন্ধন বা এফিডেভিটের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবার থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে শেষ হওয়া এই সভায় স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।