ব্রেকিং নিউজ পল্লী বিদ্যুতের বিলে পুরোনো বকেয়ার ছড়াছড়ি; সফটওয়্যার ত্রুটির অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহকবিশ্ব বাবা দিবসে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক শ্রাবণ মাহমুদের আবেগঘন নিবেদনে কবিতা ‘বাবা’ আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা; অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণরাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধারকাঁচা বাঁশ দিয়ে জাম পারতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষকের মৃত্যু

বিশ্ব বাবা দিবসে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক শ্রাবণ মাহমুদের আবেগঘন নিবেদনে কবিতা ‘বাবা’ 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম) :

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে সকল বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আবেগঘন একটি লেখা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক এম এস শ্রাবণ মাহমুদ। ‘বাবা’ শিরোনামের ওই লেখায় তিনি একজন সন্তানের জীবনে বাবার নিঃস্বার্থ ত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার গভীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন।

তার লেখা কবিতাটি : 

“বাবা”

তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে
শব্দগুলো কেমন যেন ছোট হয়ে যায়
“কারণ তোমাকে কোনো উপমায় মাপা যায় না*
“তুমি নদী -নও
“পাহাড় -নও
“আকাশ-ও’নও
“তুমি সেই -মানুষ
“যার কাঁধের ওপর -দাঁড়িয়ে
আমি পৃথিবী দেখতে শিখেছি”
আমার জন্মের দিন
সবাই যখন আমাকে দেখছিল,
তুমি তখন আমার ভবিষ্যৎ দেখছিলে।

আমি হাঁটতে শিখেছি,
তুমি দায়িত্বের পথে দৌড়াতে শিখেছো।
আমি স্কুলে গেছি,
আর তুমি জীবনের কঠিন পরীক্ষাগুলো
হাসিমুখে দিয়ে গেছো।

মনে আছে বাবা,
ঈদের নতুন জামা কেনার আগে
তুমি নিজের শার্টটা আরেক বছর পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে।

“তখন -বুঝিনি
“আজ -বুঝি
“ভালোবাসার’ও একটি- রঙ আছে
সেটার নাম ত্যাগ”
“মাসের শেষে
হিসাবের খাতা যখন মিলতো- না,
তখন’ও আমার বই,
আমার পড়াশোনা,
আমার স্বপ্ন-
কোনো কিছুর কমতি হতে -দাওনি”
“আজ বুঝি-
কিছু অলৌকিক ঘটনা
আসলে বাবারাই ঘটান”

“তুমি কখনও বলোনি,
‘আমি -ক্লান্ত”
“কখনও- বলোনি,
‘আমার’ও কষ্ট হয়”
“শুধু রাত গভীর -হলে
তোমার চোখের কোণের নীরবতা
সব কথা বলে দিতো”

(বাবা)
তোমার ভালোবাসা ছিল
রোদের মতো-
সবসময় পাশে,
কিন্তু নিজের অস্তিত্বের কথা
কখনও উচ্চারণ করেনি।

আজ আমি বড় হয়েছি।
জীবনের অনেক পথ পেরিয়েছি,
অনেক মানুষের ভিড় দেখেছি,
অনেক সম্পর্কের রং বদলাতে দেখেছি।
কিন্তু তোমার মতো নিঃস্বার্থ একজন মানুষ
আর কখনও দেখিনি।

” আমি জানি,
মানুষ চলে যায়,
বাবারা চলে যান না।
তারা বেঁচে থাকেন
সন্তানের সাহসে,
সিদ্ধান্তে,
মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষায়,
আর প্রতিদিনের প্রার্থনায়।

“আজ বিশ্ব বাবা দিবসে”
আমার বৃদ্ধ বাবাকে মনে পড়ে যায়।

তুমি হয়তো কোনো ইতিহাসের পাতায় নেই,
কোনো পদক তোমার নামে লেখা হয়নি,
কোনো মঞ্চ তোমাকে সম্মান জানায়নি।

তবু আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছো তুমি।

“আজ’ও আমার জীবনে’র সবচেয়ে বড় পরিচয়,
সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়,
সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রেরণা-
তুমি,বাবা”।

 

লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, বাবাকে কোনো উপমায় মাপা যায় না। বাবা নদী, পাহাড় কিংবা আকাশ নন; তিনি সেই মানুষ, যার কাঁধে দাঁড়িয়ে সন্তান পৃথিবীকে চিনতে শেখে। সন্তানের জন্মলগ্ন থেকেই একজন বাবা তার ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন এবং নিজের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যান।

সাংবাদিক এম এস শ্রাবণ মাহমুদ তার লেখায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঈদের নতুন জামা কেনার আগে বাবা নিজের প্রয়োজনকে পেছনে সরিয়ে সন্তানের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মাস শেষে হিসাব না মিললেও সন্তানের পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণে কোনো কমতি রাখেননি। তাঁর ভাষায়, “আজ বুঝি, কিছু অলৌকিক ঘটনা আসলে বাবারাই ঘটান।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাবারা কখনো নিজেদের ক্লান্তি বা কষ্ট প্রকাশ করেন না। গভীর রাতে তাদের চোখের কোণের নীরবতাই জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প বলে দেয়। সন্তানের সাহস, সিদ্ধান্ত এবং মানুষ হয়ে ওঠার প্রতিটি শিক্ষায় বাবারা বেঁচে থাকেন বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিশ্ব বাবা দিবসে নিজের বৃদ্ধ বাবাকে স্মরণ করে সাংবাদিক এম এস শ্রাবণ মাহমুদ বলেন, “তুমি হয়তো কোনো ইতিহাসের পাতায় নেই, কোনো পদক তোমার নামে লেখা হয়নি, কোনো মঞ্চ তোমাকে সম্মান জানায়নি। তবুও আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছো তুমি। আজও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রেরণা তুমি, বাবা।”

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এ আবেগঘন নিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

লেখক