দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সাম্প্রতিক বিল নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও তাদের বিদ্যুৎ বিলে হঠাৎ করেই বছরের পর বছর আগের বকেয়া অর্থ যুক্ত হয়ে এসেছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও তাদের বিদ্যুৎ বিলে হঠাৎ করেই বিগত কয়েকবছর আগের বকেয়া অর্থ যুক্ত হয়ে এসেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের দাবি, মে মাসের বিদ্যুৎ বিলে বকেয়া খাতে কয়েকশ থেকে এক হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ দেখানো হয়েছে। অনেকের বিলে এক দশকেরও বেশি সময় আগের হিসাব বকেয়া হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
জমিরহাট এলাকার কৃষক হামিদুল হক জানান, তিনি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিলে দীর্ঘদিন আগের একটি বকেয়া দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা হয়েছে। কৃষি কাজের ব্যস্ত মৌসুমে এমন ভুল সংশোধনের জন্য অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেনও একই ধরনের সমস্যার কথা জানান। তার দাবি, পূর্বে পরিশোধ করা অর্থ আবারও বকেয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তাকে বিস্মিত করেছে।
সম্প্রতি ব্যবহৃত সফটওয়্যার পরিবর্তন ও তথ্য স্থানান্তরের সময় কিছু কারিগরি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। – ডিজিএম মাহাবুবুল ইসলাম
ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানান, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। তারপরও পুরোনো বকেয়া দেখিয়ে নতুন বিল পাঠানোয় তারা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পার্বতীপুর জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ব্যবহৃত সফটওয়্যার পরিবর্তন ও তথ্য স্থানান্তরের সময় কিছু কারিগরি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সীমিত সংখ্যক গ্রাহকের বিলে ভুল তথ্য যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে কয়েক হাজার গ্রাহক এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে বিল সংশোধনের কাজ করছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক নয়, কয়েকশ গ্রাহকের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং বাকি অভিযোগগুলোও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
একটি উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে কয়েক হাজার গ্রাহক এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
এদিকে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির দায় কোনোভাবেই সাধারণ ভোক্তাদের বহন করা উচিত নয়।