বগুড়ার নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মিতভাবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রকৃতির বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছে দিচ্ছে এই গ্রাম আদালত। ফলে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ছে এবং আদালতমুখী মামলার প্রবণতাও কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, হিসাব সহকারী সবুজ শেখ, ইউপি সদস্য আল আমিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল হামিদ এবং সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছা. পাপিয়া বেগমসহ ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই দ্রুত সমাধান পাচ্ছেন। পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই মীমাংসা হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল বলেন, “গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা পৌঁছে দেওয়া। আমরা নিয়মিতভাবে প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাম আদালত পরিচালনা করছি এবং নিরপেক্ষভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রাম আদালতের কারণে ছোটখাটো বিরোধের সমাধানে আর জেলা শহরে গিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্কও অটুট থাকছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আগে ছোট একটি বিরোধ মেটাতে অনেক সময় ও টাকা খরচ হতো। এখন ইউনিয়ন পরিষদেই দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকারী উদ্যোগ।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উভয় পক্ষের কথা শুনে ন্যায়সংগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে মানুষ সহজে বিচার পাচ্ছে এবং অযথা হয়রানিও কমেছে।”
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে নিয়মিত শুনানি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি আরও সহজ হবে এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।