গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া এলাকায় জমির মালিকানা দাবি ও বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। এ সময় জমির বিরোধ স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় দলিল ও পর্চাসহ জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এদিকে, বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট, ভরাট করা বালু অপসারণ এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মো. জামিল হোসেন।
আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলার মধ্যে একটি পক্ষ রাতের আঁধারে কৃষিজমিতে বালু ভরাট করছে। এতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আবেদনের অনুলিপি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান ৩৭/২৫ নম্বর বাটোয়ারা মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, বালু ভরাট কিংবা চারা ও কলাগাছ রোপণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষের দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।