দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চার ট্যাংক লরি শ্রমিকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং শ্রমিক নেতাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে প্রায় আট ঘণ্টা জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পার্বতীপুর রেলওয়ে ওয়েল হেড ডিপোর প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।
এতে উত্তরাঞ্চলের আট জেলা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে আসা ট্যাংক লরিগুলো ডিপোতে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে ওই সময়ে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সোমবার বিকেলে ট্যাংক লরি শ্রমিক সাগর, আইউব আলী, হাসান আলী ও রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এর প্রতিবাদে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ডিপোর প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে দড়ি খামার গ্রাম থেকে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল চার শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।
এদিকে, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান আতুকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জয়ন্ত কুমারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ এবং ওসি আব্দুল ওয়াদুদের মধ্যস্থতায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পার্বতীপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে আরও চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুর প্রায় ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকেরা।
তবে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার চার শ্রমিককে মঙ্গলবারের মধ্যে জামিনে মুক্তি দেওয়ার দাবি পূরণ না হলে বুধবার থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।