চলে গেলেন চিরবিদায় নিয়ে রাজবাড়ী জেলা বারের আইনজীবী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দেবাহুতি চক্রবর্তী।
শনিবার সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান রাজবাড়ী জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৭৩ বছর বয়সী এই নেত্রী। তার মরদেহে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।
এসময় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জেলা ছাত্রদল, মৈত্রী থিয়েটার গ্রুপ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, রাবেয়া-কাদের স্মৃতি পাঠাগার, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, রাজবাড়ী থিয়েটার, আবোল-তাবোল শিশু সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে মরদেহটি শহরের পান্না চত্ত্বরে অবস্থিত মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে রাজবাড়ী বার এ্যাসোসিয়েশন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো।
শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের প্রথম নারী আইনজীবী।
নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর আগেই নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন।