ব্রেকিং নিউজ বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ আর নেইবিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে কারণ দর্শানোর নোটিশরাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুরআত্রাইয়ে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সার নিতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরকালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে তিন ভাইকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম

রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুর

রাজবাড়ীতে স্বামীর দাযের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মোছাঃ তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তানিয়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে ও রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত নার্স।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে মোছাঃ তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তানিয়ার স্বামী মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ৬ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা রাখার জন্য দেন। সে ব্যাংকে জমা না রেখে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত পুর্বক রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করে। তানিয়া আদালতে আপোষের শর্তে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন দেন। আপোষ না হওয়ায় ধার্য্য তারিখ সোমবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তানিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় সত্যতা পেয়ে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। ১৬দিন পর জামিনে বের হন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই যৌতুক ও অর্থ আত্নসাতের আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি আদালতে হাজির হয়ে আপোষের শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মিমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লেখক