ব্রেকিং নিউজ রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবনক্ষেতলালে টিসিবির পণ্য বিতরণ, ১১৫৯ পরিবার পেল সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্যসুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, ডাকাতদের কবল থেকে ৫ জেলে জীবিত উদ্ধারগার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে: এমপি মিলনজাতীয় যুব পুরস্কার অর্জন করলেন আত্রাইয়ের কৃষিবিদ সামিউল ইসলাম

শাজাহানপুরে এইচএসসি-আলিম-বিএম পরীক্ষার ফলে বড় ব্যবধান

সুজন
শাজাহানপুর বগুড়া

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও বিএম পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে পাসের হারে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। আলিম পরীক্ষায় ৯৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে আতাইল ফাজিল মাদরাসা। অন্যদিকে, মাত্র ৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বিহিগ্রাম এ.ডি.ইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসা। এদিকে এইচএসসির তুলনায় কারিগরি ও বিএম শাখার ফলাফলও বেশ হতাশাজনক। সামগ্রিক ফলাফল ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় ডোমনপুকুর ও সাজাপুর কেন্দ্রের অধীনে উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৫১ জন। সে হিসাবে উপজেলায় আলিম পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ১২৯ জন।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে আতাইল ফাজিল মাদরাসা। ৮১ দশমিক ৩৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদরাসা। রাজবাড়ী রহমানিয়া ফাজিল মাদরাসায় পাসের হার ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জোড়া নজমুল উলুম মাদরাসায় ৮০ শতাংশ, ডোমনপুকুর আমিনীয়া মাদরাসায় ৭৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং বামুনিয়া সমবায় ও নগর আজিজুন্নেছা মহিলা মাদরাসায় পাসের হার ৭৫ শতাংশ।

এ ছাড়া খোট্টাপাড়া এসআই ফাজিল মাদরাসায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং নগর জামেয়া মোহাম্মাদীয়া মাদরাসায় ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা বিহিগ্রাম এ.ডি.ইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসায় পাসের হার মাত্র ৫০ শতাংশ।

আলিম পরীক্ষায় সর্বাধিক ১৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন সাজাপুর ফুলতলা আহমাদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮১ শতাংশের বেশি হলেও অকৃতকার্য হয়েছেন ২৫ জন। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার মোট ২০ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই এ মাদরাসার। এ ছাড়া জোড়া নজমুল উলুম মাদরাসা থেকে ৭ জন এবং আতাইল ও বামুনিয়া মাদরাসা থেকে ২ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ছাত্রীদের জন্য পরিচালিত নগর আজিরুন রাবেয়া মহিলা ফাজিল মাদরাসা থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ জন। তাঁদের মধ্যে একজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ও বিএম পরীক্ষার ফলাফলও হতাশার চিত্র তুলে ধরেছে। এ দুই শাখায় মোট ১ হাজার ৬৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। সে হিসাবে সামগ্রিক পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সাধারণ এইচএসসি শাখায় ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ২০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮৯০ জন। এ শাখায় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে, কারিগরি ও বিএম শাখার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৪১ জন। এ শাখায় পাসের হার ৩১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

সাধারণ এইচএসসি শাখায় বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া মিলেনিয়াম ক্লাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশগ্রহণকারী ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে, কারিগরি ও বিএম শাখায় ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে। সরকারি কমর উদ্দিন ইসলামিয়া কলেজের বিএম শাখা থেকে ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩৮ জন। রাণীরহাট স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ১৮২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ জন।

বিহিগ্রাম এ.ডি.ইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু নাছর মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, “বিগত বছরের তুলনায় এ বছরের ফলাফল দুঃখজনক। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছিল না এবং ঠিকমতো পড়াশোনা করেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে ব্রিফিং করেছি। আগামীকাল থেকেই তাদের নিয়মিত ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। অকৃতকার্যদের মধ্যে কয়েকজন শুধু আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তারা আগামী ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষায় অংশ নেবে। আশা করছি, তারা শতভাগ উত্তীর্ণ হবে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বোর্ড চ্যালেঞ্জও করবে বলে জানতে পেরেছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জানান, যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করেনি এবং যাদের পড়াশোনার বিষয়ে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না, তাদের ফলাফলই তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও সচেতন হলে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যা লিখেছে, সে অনুযায়ীই তাদের ফলাফল হয়েছে। ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবারই আন্তরিক হতে হবে। এজন্য অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা যায়।

শিক্ষকদের বলেছি, বছরের শুরু থেকেই যেন শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করলে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করলে আগামীতে অবশ্যই ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে।
শাজাহানপুরে সরকারি কমর উদ্দিন ইসলামিয়া কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে।
পাশাপাশি আলিম পরীক্ষায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করলেও একাধিক প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিশেষ করে বিহিগ্রাম এ.ডি.ইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসার ফলাফল উদ্বেগজনক।

শিক্ষার মানোন্নয়ন, দুর্বল ফলাফলের কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

লেখক