রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীতে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে দুইজন অস্বচ্ছল অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আবর প্রবাসী শামছুল আলম শিমুর আর্থিক সহায়তায় এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
শামছুল আলমের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নজরুল ইসলাম। তিনি ছয়বছর ধরে সৌদিতে ব্যবসা করেন।
অদম্য মেধাবী দুই শিক্ষার্থী হলো লাবিব মাহমুদ ও সোহানুর রহমান। তারা দুইজনই রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। লাবিবের বাড়ি সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। সোহানুরের বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলা সোনাপুর। সোহানুর রাজবাড়ীর নতুন বাজার এলাকায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে।
লাবিবের ছোট ভাই আবীর মাহমুদের জন্মদিনের কেক কিনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ মে ২০১৮ সালে তার বাবা মারা যান। তখন লাবিব সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর থেকে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে তারা দিনাতিপাত করছেন। বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি মুদি দোকান ও কাপর সেলাই করে খুব কষ্টে তাদের সংসার চলে। জিপিএ ৫ পেলেও বই, ভর্তির টাকা ও কলেজের পোশাক কেনার মতো টাকা তাদের হাতে নেই।
সোহানুরের বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন। তার মা স্থানীয় একটি পাটকলে চাকুরি করেন। সে ডেলিভারীম্যানের চাকুরি করে পড়ালেখার খরচ চালায়। তাকে নিয়ে প্রথম আলোতে ৮ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লাবিব ও সোহানুরকে এক সেট করে বই, খাতা ও কলম প্রদান করা হয়। এসময় প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, আর্থিক সহয়তাকারী শামছুল আলমের ফুফাতো ভাই এনাম খান, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক শেখ ফয়সাল, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মহসিন মৃধা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান মাসুম, বন্ধু আলী রেজা, কাওসার আহমেদ প্রমূখ ছিলেন। সমন্বয় করেন প্রথম আলো রাজবাড়ী প্রতিনিধি এজাজ আহম্মেদ।
শামছুল আলম মুঠোফোনে বলেন, আমার পরিবার আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল। তবে একটি কারণে আমার পড়ালেখা সম্পন্ন করতে পারিনি। এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার একটি বিশেষ দুর্বলতা আছে। আর সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে অনেক দিন ধরে চিনি। একারণে ফেসবুকে আপনার স্ট্যাটাস দেখেই রাজি হয়ে গেছি। কারণ প্রথম আলো ও আপনারা সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।