ব্রেকিং নিউজ নজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনায় সমাজ গড়ার আহ্বান : কালীগঞ্জে এমপি ফজলুল হক মিলনেরগাজীপুরে তুচ্ছ ঘটনায় বসতঘরে হামলা, আহত ৪কয়রায় সিএসও নেটওয়ার্কের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিতআত্রাইয়ে চুরি-ডাকাতিসহ পাঁচ মামলার আসামি গ্রেফতারদুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের সেবক হয়ে কাজ করতে চান মো. ইদ্রিস আলী

সংগীতের সাধনায় প্রতিষ্ঠিত ঢাকার সরকারি সংগীত কলেজ: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মিলনস্থল

শোয়েব হোসেন (প্রাক্তন ছাত্র):

বাংলাদেশে উচ্চমানের সংগীত শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে আজ যে প্রতিষ্ঠানটি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে তার নাম সরকারি সংগীত কলেজ, ঢাকা। এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও শ্রেণিকক্ষ চালুর ইতিহাস দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রারই অংশ।

১৯৬৩ সালের ১লা জুন, বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও সঙ্গীত গবেষক পণ্ডিত বারীন মজুমদার-এর উদ্যোগে এই সংগীত মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র, যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীত দুই ধারাতেই নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়।
প্রথমে কলেজটি ঢাকা শহরের একটি ছোট ভবনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করলেও, শীঘ্রই সংগীতচর্চার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়, কিন্তু অল্পদিনেই এটি সংগীতশিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। এই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

পণ্ডিত বারীন মজুমদার কলেজটির গঠন, পাঠ্যসূচি প্রণয়ন ও শিক্ষকদের নিয়োগে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিশ্বাস করতে

“সংগীত শুধু শিল্প নয়, এটি এক গভীর সাধনা যা মানুষকে মনন, নৈতিকতা ও সৃষ্টিশীলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।”

পরবর্তীকালে একে একেবকলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে এটি জাতীয়করণ করে এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে “সরকারি সংগীত কলেজ, ঢাকা” নাম প্রদান করে। তখন থেকে কলেজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সংগীত বিষয়ে স্নাতক (Pass), সম্মান (Honours) ও স্নাতকোত্তর (Masters) পর্যায়ের ডিগ্রি প্রদান করছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সংগীতচর্চার পাশাপাশি থিয়োরি, পারফর্মিং আর্টস, বাদ্যযন্ত্র, ধ্বনি বিজ্ঞান, লোকসংগীত ও ধ্রুপদী সংগীত বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। এর ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিল্পীরা দেশের টেলিভিশন, রেডিও, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংগীত মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কলেজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন, স্বাধীনতার সময়কার সংগীত প্রচারণা এবং পরবর্তীকালের সংগীতধারার বিকাশে এক অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
এখনও এটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বরং এক ঐতিহ্যের প্রতীক।যেখানে সুর, সাধনা ও সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে।

লেখক