ব্রেকিং নিউজ নজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনায় সমাজ গড়ার আহ্বান : কালীগঞ্জে এমপি ফজলুল হক মিলনেরগাজীপুরে তুচ্ছ ঘটনায় বসতঘরে হামলা, আহত ৪কয়রায় সিএসও নেটওয়ার্কের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিতআত্রাইয়ে চুরি-ডাকাতিসহ পাঁচ মামলার আসামি গ্রেফতারদুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের সেবক হয়ে কাজ করতে চান মো. ইদ্রিস আলী

সাদুল্লাপুরে পেট্রোল বিক্রি বন্ধের অভিযোগ, অকটেন নিতে বাধ্য করার দাবি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আহসান হাবীব নাহিদ
স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সাহানা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রেখে গ্রাহকদের বেশি দামের অকটেন নিতে বাধ্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম (বাবলা)-এর মালিকানাধীন ওই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখায় সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টেশনে পেট্রোল মজুদ থাকলেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না। বরং তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে অকটেন নিতে, যার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। একাধিক গ্রাহক জানান, “পেট্রোল থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেওয়া হচ্ছে না, অকটেন নিতে বাধ্য করা হচ্ছে—এতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।”

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা তারা দেখাতে পারেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সম্প্রতি পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ থাকায় সাময়িকভাবে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতি গ্রাহককে সীমিত পরিমাণ অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও গ্রাহকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফিলিং স্টেশনের মালিক শহীদুল ইসলাম বলেন, “সব কিছু নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পেট্রোল বিক্রি স্বাভাবিক করা এবং পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করা হোক।

সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি বিতরণে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লেখক