জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে ধান বিক্রির সময় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ কেজি করে ‘ধলতা’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাতাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ প্রথা চালু থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ধলতা দেওয়ার কারণে তারা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্তমানে বাজারে নব্বই ধান প্রতি মন ১৬০০ থেকে ১৬৫০ টাকা, কাঁটারি ধান ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হারুঞ্জা গ্রামের কৃষক মোঃ ইমরান জানান, কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধান ফলাই, কিন্তু বাজারে এসে আবার অতিরিক্ত ধলতা দিতে হয়। এতে আমাদের লোকসান আরও বেড়ে যাচ্ছে।” একই অভিযোগ করেন বাসিলাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ মামুন। তিনি বলেন, “বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এর ওপর বাজারে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ধান কেটে নেওয়া হয়। কৃষকদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।” এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা বাজারে ধানের ওজন ও ধলতা নির্ধারণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তাদের মতে, কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।