“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”- এই চিরন্তন মানবিক বাণীকে বুকে ধারণ করে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানো ও অসুস্থ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং ‘হাজী আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার।
সোমবার (২২ জুন) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মিরিনা সুলতানা মেরির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মেরির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক জীবন সংগ্রামের গল্প শোনেন।
মিরিনা সুলতানা মেরির গল্পটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় নির্মম রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর থেকে পৃথিবীর আলো তাঁর কাছে চিরতরে অন্ধকার। জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ও আকুতির কথা জানিয়ে মেরি অশ্রুসজল চোখে বলেছিলেন “আল্লাহ যদি মাত্র ৫ মিনিটের জন্য আমার চোখের আলো ফিরিয়ে দিতেন, আমি শুধু একবার প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে মন ভরে দেখতাম।
হাজী আব্দুস সাত্তারকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে কোনো এক ভাই তার অসহায় বোনকে দেখতে এসেছে। অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে এমন সহমর্মিতা তাঁকে বেঁচে থাকার নতুন মানসিক শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।
মেরির খোঁজখবর নেওয়ার পর হাজী আব্দুস সাত্তার মিরপুর এমদাদিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় যান। সেখানে তিনি কুরআনের পাখিদের (শিক্ষার্থী) সাথে কিছু সময় কাটান। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
মিরপুর থেকে বের হয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার মাছিমপুর মহল্লায় যান। সেখানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনুর রহমান হাসুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পবিত্র মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী তৈরি হয়েছে একে অপরের উপকার করার জন্য। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কষ্টে থাকেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।
তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই আখিরাতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমাজে যদি সবাই একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন শিপুসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।