বরগুনার বেতাগী উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসায় এবারের পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আলহাজ্ব জমিরউদ্দীন মৃধা দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৫ জন। এ ফলাফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান না করা, ক্লাস চলাকালে মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলহাজ্ব জমিরউদ্দীন মৃধা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অপরদিকে কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক সংখ্যা ১৭ জন। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, মাদ্রাসায় অনেক সময় নিয়মিত পাঠদান হয় না। কোনো কোনো শিক্ষক ক্লাসের সময় শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাদের দাবি।
তবে আলহাজ্ব জমিরউদ্দীন মৃধা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. নাজমুল হক বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় গণিতের শিক্ষক নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই গণিত বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিনটি মাদ্রাসা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট ও প্রতিযোগিতা চলে আসছে। এর প্রভাবও প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফলের ওপর পড়ছে বলে মনে করেন তারা।
এদিকে কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে সুপারকে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সুপার বেতাগীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিল করানোর কাজে অবস্থান করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার সহ-সুপারের কাছে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরা দেখে তিনি দ্রুত অফিস কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
বিষয়টি বেতাগী উপজেলা প্রশাসক মুহ. সাদ্দাম হোসেনকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দেখব।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দুই মাদ্রাসার পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রমের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি এত কমসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার কারণও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।