তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি; জাকির হোসেন-টুটুলঃ
শোকাবহ আগস্ট: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হারানোর মাস!
আজ ১৫ই আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৫-০০ মিনিটে দুবইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শোক দিবস ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শোক সভা ও বিশেষ দোয়া মাহাফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের বিনম্র শ্রদ্ধায়- শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীগণ।
তানোর উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার জাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক মুন্ডুমালা পৌর মেয়র ও পাচন্দর ইউপি পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবার্হী কমিটির অন্যতম সদস্য, জননেতা গোলাম রাব্বানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাকিবুল হাসান সরকার (পাপুল)- সাংগঠনিক সম্পাদক, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, সাইদুর রহমান, মেয়র- মুন্ডুমালা পৌরসভা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগ ও রাজিব সরকার হিরো, সভাপতি- তানোর পৌর আওয়ামী যুবলীগ।
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, প্রভাষক: রাকিবুল হাসান সরকার (পাপুল) বলেন; বাঙালি জাতির শোকের মাস আগস্ট- মাস, এ মাসেই জাতির ইতিহাসে কলঙ্কিত এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু, প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, বাঙালির নিরন্তন প্রেরণার চিরন্তন উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।
১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট শেষ রাতে (১৫ আগস্ট) ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাকে সপরিবারে নিঃশেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে সেখানে হত্যা করা হয়। বেইলি রোডে সরকারি বাসায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবি সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টুকে। আরেক বাসায় হত্যা করা হয় তার ভাগ্নে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে।
বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে শুনে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। তবে ৩২ নম্বরের সামনে পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে প্রথমে বাধা দেয় ও পরে হত্যা করে। এছাড়া ওইদিন ৩২ নম্বরের বাড়িতে কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড বিশ্বের বুকে নিন্দিত ও ঘৃণিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ হয়ে আছে।
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে বাঙালি জাতি।
সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ও ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনার স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান।