রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক (২০০৪-২৬) নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপি, ভোট চুরি ও পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে ফকীর জব্বার ও শামীমা মুনমুন প্যানেল ও এজেন্টবৃন্দের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সেক্রেটারী সহকারী অধ্যাপক শামীমা আক্তার মুনমুন। এসময় প্যানেলের সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফকীর আবদুল জব্বার, কার্যনির্বাহী সদস্য রেখা খান, মঞ্জুরুল আলম, শেফালী আক্তার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২০ সালের নির্বাচনে (২০২১-২৩) তিনি সেক্রেটারী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিজয়ী হন। এবারের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনেও (২০২৪-২৬) আমি ফকীর জব্বার-শামীমা মুনমুন প্যানেলে সেক্রেটারী পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করি। সকাল ১০ টায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট গ্রহণ চলে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট চলাকালীন সময়েও আমার প্রতিপক্ষ প্যানেলে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা বিভিন্ন ভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। এমনকি ভোট চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের উস্কানীমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অনিয়ম-অসঙ্গতি বিষয়গুলো নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে মৌখিক ভাবে অবগত করা হয়েছে।
মোট ১২ হাজার ৬২৯ ভোটারের মধ্যে আট হাজার ১৩০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেক্রেটারী পদে ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয় ৪১১ ভোট। বৈধ ঘোষণা করা হয় সাত হাজার ২১৯ ভোট। শামীমা আক্তার মুনমুন পান তিন হাজার আটশ ৫৬ ভোট। আকরাম হোসেন পান তিন হাজার আটশ ৬৩ ভোট। কক্ষ দুটিতে ভোট গণনা শেষে আমাকে ৩৪ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়। এতে গণনা কক্ষে থাকা আমার প্রতিনিধি প্রতিপক্ষের ব্যালেটের বান্ডিল গণনা করার আবেদন জানায়। প্রথমে গণনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে পাঁচ বান্ডিল দেখাতে রাজি হন। এসময় অসঙ্গতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের বান্ডিলে আমার ভোট পাওয়া যায়। এতে করে আমার ২৭ ভোট বেড়ে যায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমার ভোটের ব্যবধান থাকে সাত ভোট। অপর কক্ষে থাকা আমার প্রতিনিধিরাও প্রতিপক্ষের ব্যালেটের বান্ডিল গণনা করা বা আবার দেখার আবেদন জানায়। কিন্তু টালবাহানার আশ্রয় নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে দ্রুত ভোটের ব্যালেট সেখান থেকে ঘোষণা কক্ষ লাইব্রেরীতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একাধিকবার অপরকক্ষের ভোট চেক করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ নির্বাচন কমিশনার ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে আমার প্রতিনিধি আবেদন জানায়। এক পর্যায়ে প্রার্থী লিখিত ভাবে দাবি জানাই। সেখানে উপস্থিত রেডক্রিসেন্ট ইউনিয়নের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পোলিং এজেন্টরাও ভোট গণনার দাবি তোলেন। কিন্তু কোনো দাবি মানা হয়নি। উল্টো তাড়াহুড়ো করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে থাকা সংস্থার সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল মোরশেদের কাছে মৌখিক ভাবে আবেদন করা হয়। আমি নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন জানাই। এতে ভোট গণনার ক্ষেত্রে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয়টি সহজেই প্রমাণিত হয়।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভোট গণনার দায়িত্ব ছিল প্রিজাইডিং কর্মকর্তার। শিক্ষকেরা একাধিকবার ভোট গণনা করে বান্ডিল করে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই সবকাজ করা হয়েছে।