রাজবাড়ী জেলা ঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় এক ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে বকেয়া বেতন চাওয়ায় এক সেবিকাকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় বুধবার দুপুরে ওই নারী বালিয়াকান্দি থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার শহরের তালপট্টি এলাকার পদ্মা ক্লিনিকের মালিক শিমুল হোসেন (৩২) ও মনির হোসেন (৪৫)। শিমুলের বাড়ি বালিয়াকান্দির চর আড়কান্দি গ্রামে। মনিরের বাড়ি শহরের চৌধুরীপাড়ায়।
ভূক্তভোগি নারী মোছা. বিথি (৩৫) বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অলংকারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারী সিস্টার হিসেবে পদ্মা ক্লিনিকে এক বছর তিনমাস ধরে কর্মরত। ক্লিনিকের মালিকেরা বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। শিমুল ও মনির ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিচিত নারী নিয়ে এনে ক্লিনিকে অসামাজিক কর্মকান্ড করে। অসামাজিক কর্মকান্ড দেখে ফেলায় একথা বাইরের কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। তিনমাসের বকেয়া বেতন চাইলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্লিনিকের স্টাফ নাবিলার (২০) সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পান। এঘটনার শিমুল তাকে গলা ধরে ওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে ‘যদি এই কথা বাইরে বলিস তাহলে তোকে হত্যা করিয়া ফেলবো।‘ এঘটনা আমি না বলার অঙ্গীকার করার পরও বিবাদী আমাকে পরবর্তীতে ক্লিনিকে না আসার জন্য বলে। বুধবার সকাল সাড়ে১০টার দিকে ক্লিনিকে এসে আমার তিনমাসের বকেয়া চাই। টাকা না দিয়ে আমাকে অকথ্য গালাগাল করা হয়। এরপর আমাকে ক্লিনিকের একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে নিলাফোলা জখম করে। কাপড় চোপড় টেনে হিচড়ে শ্লীতাহানী ঘটায়। এরপর তাকে একটি কক্ষের মধ্যে আটকে রাখে। আমি কৌশলে থানার একজন এসআইকে ফোন দেয়ার পর সে আমাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে।
বালিয়াকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিবুল ইসলাম বলেন, একটি মেয়ের ফোন পেয়ে আমি ক্লিনিকে গিয়ে ছিলাম। সেখানে মেয়েটিকে পাওয়া গেছে। তাকে থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে, উভয়ের মধ্যে ঝামেলা আছে বলে মনে হয়েছে।
অভিযুক্ত মনির হোসেন বলেন, ওই মেয়েটি ক্লিনিক থেকে অনেক মালামাল প্রায়ই চুরি করে বাইরে বিক্রি করে। অনেক দামী জিনিসপত্র ভাংচুর করে। যেমন, ওয়েট মাপার মেশিন ভেঙেছে। এসব কারণে তাকে ক্লিনিক থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে করে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আর মেয়েটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন কিভাবে হয়েছে তা জানিনা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী কাজে থানার বাইরে ছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে তা মামলা আকারে গ্রহণ করা হবে।