রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীতে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর)বিকেলে “প্রগতির পথে জীবনের গান” স্লোগান ধারণ করে শহরের এক নম্বর রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্তরের পাশে বটতলা উম্মুক্ত মঞ্চে জেলা উদীচীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উদীচী রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, মানবিক চিকিৎসক ডা. সুনীল কুমার বিশ্বাস। উদ্বোধনের পর একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক বাজার প্রদিক্ষণ করে, এরপর রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সভাপতি শংকর চন্দ্র সিনহা। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক কমল কে সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক আবদুল মোতালেব।
অনুষ্ঠানে পাঁচজন গুণীব্যক্তিকে ফুল, উত্তরীয় ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়। সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন উদীচীর সাবেক সভাপতি প্রয়াত আইনজীবী কমল কৃষ্ণ গুহ (মরণোত্তর), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ কমরেড আবদুস সামাদ মিয়া, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী, মানবিক চিকিৎসক পূর্ণিমা দত্ত ও বিশিষ্ট সমাজসেবক লাইলী নাহার।
বক্তারা বলেন, শোষণ নিপীড়ণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উদীচীর জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উদীচীর ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও উদীচী রাজপথে থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেছে। কিন্তু ১৯৭১ সাল এখন পর্যন্ত দেশে অনেক সরকার গঠন হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সরকারই শোষন বৈষম্য নিরসন করতে পারেনি। দেশে এখন সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত সংগীত শিক্ষকের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এটা সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে দেশের মানুষের পরাজয় হয়েছে। উদীচী রাজপথে থেকে এর প্রতিবাদ করছে। আগামিতেও উদীচী তার লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।