বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল ও ফকিরেরা মাজার সংলগ্ন এলাকায় দল বেঁধে গান গাইছেন। মারফতি, জারি, সারি ও মুর্শিদি গানের আসরে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। আধ্যাত্মিক সাধনার টানে কেউ কেউ অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে কয়েক দিন আগেই মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ইংরেজ আমল থেকে এই মেলার গুরুত্ব ভিন্ন মাত্রার। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ব্রিটিশদের তাড়াতে ফকির মজনু শাহ এই মহাস্থানগড় থেকেই ফকির বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক বিদ্রোহের স্মৃতি স্মরণে প্রতি বছর বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, ইংরেজ আামল থেকে এই মেলার গুরুত্ব ভিন্ন মাত্রার। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ব্রিটিশদের তাড়াতে ফকির মজনু শাহ এই মহাস্থানগড় থেকেই ফকির বিদ্রোহ
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা হাবিবুর রহমান ফকির বলেন, “গুরুর প্রতি ভক্তি ও আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা প্রতি বছর এখানে আসি। শুধু দেশ নয়, ভারত থেকেও অনেক সাধু-সন্ন্যাসী এই উৎসবে যোগ দেন।”
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ‘মহাস্থানের কটকটি’। মেলা উপলক্ষে কেনাবেচাও তুঙ্গে। স্থানীয় কটকটি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, সারা বছরের তুলনায় এই দিনে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হয়। একদিনেই কয়েক কোটি টাকার কটকটি কেনাবেচার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া মাটির তৈজসপত্র, খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
নিরাপত্তার বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।