কোল-ফেইস বোনাসের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিকরা শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। খনির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে অবস্থান ধর্মঘটে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সভাপতি রাহেনুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক রাহেনুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, আন্দোলন পরিচালনা কমিটি’র সদস্য সচিব আশরাফুল আলম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খনির ভূ-গর্ভের ১৪০৬ নম্বর কোল ফেইসের কয়লা উত্তোলন শেষ হলেও, এ পর্যন্ত কোন শ্রমিককে ওই কোল ফেইসের বোনাস দেওয়া হয়নি। পেট্রো বাংলার কতিপয় কর্মকর্তার কারসাজিতে ফেইস বোনাসের প্রায় দেড় কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, খনি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি কোল ফেইজের কয়লা উত্তোলন শেষ হলে খনির ১২শ শ্রমিকের প্রতি জনকে ৮ হাজার ৫শ টাকা হিসেবে বোনাস দেওয়া হয়। এতদিন তা অব্যাহত ছিলো কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের এক সচিব পেট্রো বাংলার শীর্ষ পদে বসার পর থেকে বোনাস না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের বোনাস প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঈদের আগে শ্রমিকদের বোনাস দেওয়া না হলে কয়লা খনির কোনো কর্মকর্তাকে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এ বিক্ষোভকারীরা।
সভা শেষে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। এসময় ৬ সদস্যের শ্রমিক নেতা মতবিনিময়ে মিলিত হন।
এ বিষয়ে কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শাহ আলমের সাথে মুখোমুখি কথা হলে তিনি জানান, আইনগত একটি জটিলতার কারণে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের কোল ফেইস বোনাস প্রদান না করার জন্য অস্থায়ী নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
আমার পক্ষ থেকে পেট্রো বাংলা চেয়ারম্যানকে শ্রমিকদের বোনাস দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। পেট্রোবাংলা অফিসও বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে অবগত করেছেন। আগামীকালের মধ্যেই শ্রমিকদের বোনাস প্রাপ্তির সংকট কেটে যাবে বলে আশাকরছি।