ব্রেকিং নিউজ রাজবাড়ীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রবাসী নিহতস্বপ্নপার্বতীপুর পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন মিজানুর রহমান সিয়াম: শ্রমিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে ঘোষণা শাজাহানপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদে হামলার অভিযোগমাদক শান্তি দেয় না, পরিবারকে তছনছ করে ফেলে-এমপি ফজলুল হক মিলন

রাজবাড়ীতে মা  মেয়েকে মারধর, পৌর কাউন্সিলর কারাগারে

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীতে মা ও দুই মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানী করার ঘটনায় পৌরসভার কাউন্সিলরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন।
পৌর কাউন্সিলরের নাম মাহাবুব রহমান পলাশ (৪৩)। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর বাড়ি বিনোদপুরের ভাজনচালা এলাকায়। পলাশের বাবার নাম কুটি মিয়া। পলাশ ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫জনকে আসামী করা হয়।
সম্প্রতি কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান ওরফে পলাশ রেলওয়ের প্রকৌশলীকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। । তাঁর বিরুদ্ধে সদর থানা ও রেলওয়ে থানায় মামলা রয়েছে।
সৈয়দা সামসুন্নাহার (৪৫) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তাঁর স্বামীর নাম ফজলুর রহমান। তিনি বিনোদপুরের নিউ কলোনী এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।
এজাহার ও বাদী সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছে। তাঁর তিনটি সন্তান। বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্নাতকোত্তর (পুপুলেশন সায়েন্স) শ্রেণিতে, ২য় মেয়ে রাজবাড়ী সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ছোট মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। পরিবারের আয়ের কোনো উৎস নেই। রেলওয়ে থেকে সরকারি নিয়ম মেনে জমি ইজারা নিয়েছেন। সেখানে দোকান নির্মাণ করার কাজ চলছিলো। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কাউন্সিলর মাহাবুর রহমান পলাশ, মো. বাবুসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন সহযোগি দোকান ঘর তৈরিতে বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। লাথি দিয়ে মাটির ওপরে ফেলে দেয়। তাঁর বড় মেয়ে এগিয়ে এসে বাঁধা দিলে তাকে শ্লীলতাহানী করা হয়। মারধর করে। স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। মাটি থেকে তুলে আবারও মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁরা চলে যায়।
বাদীর মেঝো মেয়ে জান্নাতুল মার্জিয়া বলেন, আগেও আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিল। আমার প্রতিবন্ধী ছোট বোনকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়। আমরা থানায় মামলা করি। আমাদের টাকা দিয়ে আপোস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়ে ছিল। আমাদের দোকানটি তৈরি করা হচ্ছে। দোকানে সোমবার বিকেলে আমার আম্মুকে মারধর করে। আমার আপা এগিয়ে এলে প্রথমে তাঁর কোমড়ে লাথি দেয়। আমি ট্রিপল নাইনে ফোন দিতে গেলে ফোন ছিনিয়ে নিতে আসে। সরে গেলে আমাকেও লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। আমার ও আমার বোনের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। কাউন্সিলর চিল্লায়ে আশেপাশের সব দোকান বন্ধ করতে বলে। দোকানীরা সার্টার বন্ধ করে দেয়। কয়েকজন আমাদের মারধর করতে থাকে। লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। মাটি থেকে তুলে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। আর বলতে থাকে কেউ দেখেছো, তাঁর সহযোগিরা বলে না কেউ দেখি নাই।
তিনি বলেন, পলাশ বলতে থাকেন, আমি কাউন্সিলর। আমার কিচ্ছু হবে না। আর এদের মুখ বন্ধ করার জন্য রাতে ১০০জন ছেলেকে ঘরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। গণধর্ষণ একবার হলেই মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।
মামলার বাদী সৈয়দা সামসুন্নাহার বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রেলের কোয়ার্টারে থাকতাম। রেল উচ্ছেদ অভিযান করছে। একারণে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকি। সরাসরি ও মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মেয়েরা রেপ হতে পারে বলতেছে। খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। অনেকেই মীমাংসা করতে বলতেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, রাত একটার দিকে পান্না চত্বর এলাকা থেকে কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) উজির আলী শেখ বলেন, বিকেল ৪টায় তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়ছুন নাহার সুরমার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লেখক