সাজ্জাদ হোসেন (সাবু) গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে অর্থ আত্বসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১০নং রাখালবুরুজ ইউনিয়নের রাখালবুরুজ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেমা বেগমের বিরুদ্ধে উঠেছে এসব অভিযোগ।
জানা যায়, মোছা, ছালেমা বেগম ২০১৭ সালের (৪এপ্রিল) রাখালবুরুজ-২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্বসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম তান্ত্রিক কার্যকলাপ করেছেন। বিদ্যালয়টি সরকারি ভাবে ২০১৮-১৯ সালের প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্ধ পায় ১০ হাজার টাকা, স্লিপ ফান্ডের বরাদ্দ হয় ৪০হাজার টাকা। ২০১৯-২০ সালের প্রাক- প্রাথমিকের বরাদ্ধ পায় ১০ হাজার টাকা, রুটিন মেইন টেনেন্স কাজের জন্য বরাদ্ধ পায় ৪০হাজার টাকা। ২০২১-২২ সালের প্রাক- প্রাথমিকের বরাদ্ধ পায় ১০ হাজার টাকা, স্লিপ ফান্ডের ৭০ হাজার টাকা এবং ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ ২ লক্ষ টাকা। ২০২২-২৩অর্থবছরের পিইডিপি-৪ এর আওতার স্লিপ ফান্ডের বরাদ্দ হয় ৫০হাজার টাকা।
উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানা যায়, এসব টাকায় উপকরণ হিসেবে আয়না, পানির ফিল্টার, ফুটবল, ঘড়ি, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, ডায়েরি, খাতা, ঘর সজ্জিত, ঘর অংকন, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ের কথা থাকলেও তা না করে প্রতি বছরই প্রধান শিক্ষক ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে টাকা আত্মসাৎ করে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পৃর্বের অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য মাদুর, সাউন্ডবক্স, সিটিজেন চার্টার, ইতিহাস সংবলিত বই ক্রয় করার কথা থাকলেও তা পরিপূর্ণভাবে না করে নয় ছয় করা অভিযোগ রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় একই উপকরণ ক্রয় দেখিয়ে বা একটু অদল-বদল করে উক্ত প্রধান শিক্ষক সহ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্লিপ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করায় প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন সরকারের লক্ষ উদ্দেশ্য সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না ।
এ বিষয়ে রাখালবুরুজ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ২০২২ সালে নিজের ১৪ হাজার টাকা খরচ করে বিদ্যালয়ের রং করেছি। এখন আমরা রং করলে ১লক্ষ টাকা দিয়ে করা যেত না। যা করেছি সভাপতির সম্মতিতে সব কাজ করছি। আমরা টি.ও স্যার ও এ.টি.ও স্যারের অনুমোদন নিয়ে কাজ করছি। এটা আমরা নিজেরা করিনি, এ.টি.ও স্যার বলছে এটা সমন্বয় করা যাবে। আমাদের এই এ,টি,ও স্যার থাকতেই কাজটি হইছে। তিনি যদি সমন্বয় না করত, তাহলে আমরা সমন্বয় করতে পারতাম না। টি,ও স্যার ও এ,টি,ও স্যার সভাপতি সবাই জড়িত ছিল বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন আপনাকে এ খবর কে দিয়েছে আপনি অফিসে গিয়ে খবর নেন। আপনারা মনে করেন, আমরা টাকা মেরে খেয়েছি।
রাখালবুরুজ ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রবিউল আউয়াল বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে সোনালী ব্যাংকের চেক স্বাক্ষর নেন। টাকা উওোলনের সময় আমাকে অবগত করা হয় নাই, এবং কি কাজে টাকা ব্যায় করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক সে বিষয়ে আমাকে অবগত করেনি।
এ ব্যাপারে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ রানা জানান, স্লিপ ফান্ডের টাকা জানুয়ারি, ফেব্রয়ারি, মার্চের দিকে প্রদান করা হয়েছে। আমার পূর্বের অফিসারে সময় এ বরাদ্দ প্রদান করা হয়। আমি নতুন আসছি প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি নামের চেক ইস্যু হয়। তারা এটি খরচ করে। এব্যপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলে জানান।