রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মোবাইল নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে গলা টিপে স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ড আড়াল করতে থানায় নিখোঁজ হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ ও অনৈতিক সম্পর্কের কারণে অন্যত্র পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর নাম মিনু বেগম (২৭)। তাঁর স্বামীর নাম উজ্জ্বল শেখ। বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে। ১৯ আগস্ট দুপুরে বসতবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এবিষয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে প্রেসবিফ্রিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন সাহা উপস্থিত ছিলেন।
এসপি জি এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে কুদ্দুস শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে মিনুর বিয়ে হয়। উজ্জ্বল ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একটি পাটকলে কাজ করেন। উজ্জ্বল মিনু দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। একারণে মিনুকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হতো। কয়েক বছর আগে উজ্জ্বল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ৫ আগস্ট রাতে উজ্জ্বল পাটকল থেকে বাড়িতে আসে। এসময় মোবাইল ফোন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে উজ্জ্বল গলা টিপে মিনুকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের পর মা-বাবা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও নানী শ্বাশুড়িকে ডেকে তোলেন। তারা মিনুর মাথায় পানি ঢালেন। কিন্তু মিনু তার আগেই মারা যায়।
আইনের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচানোর জন্য মিনুর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন উজ্জ্বল শেখের বাবা। রাতেই উজ্জ্বল শেখ, কুদ্দুস শেখ ও উজ্জ্বলের মা জোহরা বেগম লাশ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। এরপর ট্যাংকির ট্যাবটি ভালো করে আটকে দেওয়া হয়। এরপর মিনুর হত্যাকান্ড আড়াল করতে থানায় নিখোঁজ হওয়ার একটি অভিযোগ করা হয়। এছাড়া এলাকায় রটিয়ে দেওয়া হয় মিনুর সঙ্গে একজনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। মিনু রাতে পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে গেছে। ৮ আগস্ট মিনুর মা থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। ১৯ আগস্ট রোববার উজ্জ্বলদের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে পঁচা গন্ধ বের হয়। ট্যাংকির ঢাকনা খুললে মিনুর লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশ জোহরা বেগমকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়