রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীতে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বালি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া ও মিজানপুর ইউনিয়নের সুর্যনগর এলাকা। জেলা পরিষদ সদস্য আজম আলী মন্ডল ও মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন আহমেদ টুকুর মিজির গ্রুপের মধ্যে চলছে বিরোধ। এ বিরোধে হামলা-মামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে এর আগে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুর্যনগর বাজারের রেল গেইটে দুই বালি ব্যবসায়ীর উপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হয়েছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের শামসু মন্ডলের ছেলে মোঃ সাগর আহমেদ ওরফে আলিম (৩৫) ও দয়ালনগর গ্রামের হালিম শেখের ছেলে মোহাম্মদ হান্নান (৪০)। তাদেরকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
আহত মোঃ সাগর আহমেদ আলিম বলেন, তারা দুজন সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন আহমেদ টুকুর মিজির লোক। এ কারণে জেলা পরিষদ সদস্য আজম মন্ডলের সাথে চলাচল করার জন্য বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় তার লোক মোঃ বড় আলিম, পিয়াস, মোঃ রাব্বি, শাকিল, কদম আলী, তসলিম তুষার সহ আরো ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে সেন্টুর চা দোকানের সামনে হামলা করে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকলে আশেপাশের লোকজন তাদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শারীরিক অবস্থা গুরুত্বর ও আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জৌষ্ঠ নার্স আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন তাদেরকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুরের পাঠানো হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাত ও কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
জেলা পরিষদ সদস্য আজম আলী মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরা দুজনই চিহিৃত অপরাধী। মূলত ইয়াবা সেবন নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন আহমেদ টুকু মিজি বলেন, মিজানপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বালি ব্যবসায়ী হান্নান ও মোঃ সাগর আহমেদ ওরফে আলিম চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। এসময় চিহিৃতরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।