ওয়াসিম শেখ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলামের বিরুদ্ধে সাদিয়া আফরিন ওরফে সম্পা খাতুন (২৪) নামে এক তরুণী কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিয়ে ও সরকারি চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়ে সাদিয়া আফরিন ওরফে সম্পা খাতুন (২৪) নামে ঐ তরুণী বিষপান করে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেছেন। বিষপানের পর শনিবার রাতে তাকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেও হুমকি প্রদান করায় পরদিনই ভয়ে অন্যত্র পালিয়ে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আলী আসলামের উপজেলার সিংরাবাড়ী গ্রামের শাহ আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী মেয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ভেটুয়া জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুর রশীদের মেয়ে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে ছোট ভাইয়ের মারফত গত রোববার রাতে কাজিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সুষ্ঠু বিচার চেয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন নির্যাতিত ওই তরুণী।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বান্ধবী আশালতার স্বামী হওয়ায় আলী আসলামের সাথে তার পরিচয় হয়। কাজিপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় সে আমাকে সরকারি চাকুরীর প্রলোভন দেখায়। তার প্রলোভনে পড়ে গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে কাগজপত্র নিয়ে আলী আসলামের সিংড়াবাড়ী গ্রামের নিজ বাড়ীতে যাই। ওই সময় আলী আসলাম ছাড়া বাড়িতে কেউ ছিল না।
বিভিন্ন আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে আসলাম আমাকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করে এবং প্রকাশ করলে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। এরপরও আলী আসলাম আমাকে সরকারি চাকুরী এবং বিয়ে করবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে আমি বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে নানা তালবাহানা শুরু করে।
এক পর্যায়ে বিবাহ করবেনা বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করায় গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে বিয়ের দাবিতে আসলামের বাড়িতে অনশন করি। রাত ৮টার দিকে বিয়ে করবে বলে আমাকে কাজি অফিসে নিয়ে যাবার কথা বলে তার পরিচিত ছোট ভাই আরিফের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আলী আসলাম আমাকে নানারকম ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক হয় নাই এবং তার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই মর্মে স্বীকারোক্তি নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। আমার মিথ্যা স্বীকারোক্তি ফেসবুকে প্রচার ও আমার পরিবারের প্রতি ভয়ভীতি চলমান থাকায় গত ৯ ডিসেম্বর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষপান করি। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী সাদিয়া আফরিন ওরফে সম্পা খাতুন জানান, হাসপাতালেই নিরাপত্তা না থাকায় আমি সেফজোনে চিকিৎসা গ্রহন করছি।
তিনি আরও জানান, জোরপুর্বক ধর্ষণ করে আলী আসলাম গোপন ক্যামেরায় ভিডিও কিরে রেখেছে। সেগুলো আমার পরিবারকে দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। এতে সবাই আমাকে দোষারোপ করতে থাকে। আমি লজ্জায় উপায়ান্তর না পেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেই। সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসন ও দেশের জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমার আকুল আবেদন আপনার আমার পাশে দাঁড়ান। এখনো আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।