ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে চাকুরি প্রলোভন টাকা দিলেই সরকারি চাকুরি, দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীতে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে চাকুরি প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া দুই প্রতারকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই প্রেসবিফ্রিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ।
এসময় প্রেসবিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মুকিত সরকার, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইফতেখারুজ্জামান, জেলা বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার রায় চৌধুরী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন, শফিকুল ইসলাম (৩৬) ও আবু তাহের ওরফে ফয়সাল (৪২)। শফিকুলের বাড়ি রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর গ্রামে। তার বাবার নাম তাহের মন্ডল। অপরজন নওগাঁর পোরশা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আকিমুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজবাড়ীতে শামীম নামে একজন পুলিশের কনস্টেবল চাকুরির জন্য আবেদন করেন। কয়েকদিন আগে আমরা খবর পাই শামীম নামের একজন চাকুরী প্রত্যাশীকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে  শফিকুল ইসলাম ১৪ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তারা ঠিক করেন সাত লাখ টাকা দিবেন। কিন্তু শফিকুল ইসলাম তাদেরকে বলেন এটা জেলা লেবেলে হবে না। হেডকোয়ার্টার ও ঢাকা কেন্দ্রীক তাদেরকে যেতে হবে। এজন্য টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তাদেরকে চেক প্রদান করতে হবে। সাত লাখ টাকার একটি চেক তারা দিয়ে দেন। চেক দেওয়ার পরে তারা প্রতারণার স্বীকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তারপর বিষয়টি তারা আমাদের কাছে বলেন। আমরা প্রথমে রাজবাড়ীতে থেকে শফিকুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করি। পরে ঢাকা থেকে আবু তাহের নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করি।
তিনি বলেন, মূলত শফিকুল আবু তাহেরের সাথে যোগাযোগ করে এই প্রতারণা কাজগুলো করে থাকে। এরা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, বাংলাদেশ আনসার বাহিনী, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সেনা বাহিনীর এনসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এই প্রতারণা করে থাকে।
 গ্রেপ্তার আবু তাহের সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। আর শফিকুল ইসলাম পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রার্থীকে বলেন পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ছাড়া এই চাকুরি দেওয়া সম্ভব না। চাকুরি প্রত্যাশীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয়ে এক কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
ঢাকায় আবু তাহেরের বাসায় অভিযান চালিয়ে চাকুরি প্রত্যাশীদের ৫৩টি সিভি, ১৩টি ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকুরি প্রত্যাশীদের সাতটি ব্যাংক চেক, তিনটি মোবাইল ফোন, নয়টি স্বাক্ষরিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, আসামিদের ভুয়া আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড, আসামিদের বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই, তিনটি ব্যাংক এটিএম কার্ড সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপন ও একটি ডায়রী উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামিরা বিভিন্ন চাকরি প্রত্যাশীদের নিকট হতে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ডকুমেন্ট, চ্যাটিং অডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লেখক