নাহিদুল ইসলাম ফাহিম, রাজবাড়ী :
রাজবাড়ীতে বিএডিসির নিম্নমানের পেঁয়াজ বীজ সরবরাহের কারণে ৪ হাজার কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় কৃষক সমিতি মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় কৃষক সমিতির সহ-সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উপদেষ্টা আঃ সালাম মিয়া, জাতীয় কৃষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ছলেমান আলী দুলু, সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার সরকার।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএডিসির সরবরাহকৃত বীজ নিম্নমানের হওয়ায় অঙ্কুরোদ্গম হয়নি, যা কৃষকদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। এই বীজের কারণে এ বছর রাজবাড়ীতে ৭-৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ সম্ভব হবে না। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রাজবাড়ী জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে সারাদেশে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের মোট পেঁয়াজের ১৪% সরবরাহ করে। এ বছর ৪ হাজার কৃষকের মধ্যে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কিন্তু বীজের নিম্নমানের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হবে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “বিএডিসি পরীক্ষাহীন বীজ সরবরাহ করেছে, যা গাফিলতির পরিচায়ক। আমরা বিষয়টি সচিব ও বিএডিসির চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বীজের গুণমান নিয়ে বিএডিসিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
বিএডিসির রাজবাড়ী উপ-পরিচালক সৈয়দ কামরুল হক বলেন, “বীজের মান নিয়ে ল্যাব পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।”
এ ঘটনায় পেঁয়াজের সঠিক সময়ে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে এবং এক মাস দেরি হতে পারে। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অন্য জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে আবাদ পুনরায় শুরু করতে পারবেন।