ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

উপকূলের বাস্তবতা থেকে জাতীয় মঞ্চে—রতন সরকার পদক পেলেন তারিক লিটু

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

সুন্দরবনঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কয়রা থেকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মান পেলেন তরুণ অনুসন্ধানী সাংবাদিক তারিক লিটু। দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ‘চারণ সাংবাদিক রতন সরকার স্মৃতি পদক–২০২৪’।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, “তারিক লিটু শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি মফস্বল সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—সাহস, সততা আর দায়বদ্ধতার নাম।”

বর্তমানে তিনি দৈনিক আজকের দর্পণ-এর কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে কাজ করেছেন সমকাল, জাগো নিউজ, যায়যায়দিনসহ দেশের স্বনামধন্য গণমাধ্যমে। দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম, জলবায়ু সংকট, বন ও ভূমি দস্যুতার মতো ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন করে তৈরি করেছেন আলোকপাত।

তারিক লিটুর সাংবাদিকতা ছিল মাঠভিত্তিক ও অনুসন্ধাননির্ভর। খুলনার উপকূলজুড়ে দুর্নীতিবাজ চক্র, বনদস্যু, ভূমিদস্যুদের নিয়ে প্রকাশিত তাঁর প্রতিবেদনগুলো প্রশাসন ও সমাজে ফেলেছে দাগ। কখনো কয়রার নদীভাঙন, কখনো পরিবেশ ধ্বংস বা ত্রাণবিতরণে অনিয়ম—সবসময় তিনি তুলে ধরেছেন জনস্বার্থের বিষয়।

এই সাহসী প্রতিবেদনের কারণে তাকে হামলা, হুমকি, এমনকি মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবু থেমে যাননি তিনি। বরং প্রতিবেদন আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে, সত্য প্রকাশের সংকল্প আরও দৃঢ় হয়েছে।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই সাংবাদিকতায় যুক্ত হন লিটু। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গোবিপ্রবি প্রেসক্লাব’। পরে নিজ এলাকায় গড়ে তোলেন ‘কয়রা সাংবাদিক ফোরাম’। ছাত্রাবস্থার সেই অভিজ্ঞতা আজ তাকে পরিণত করেছে সাহসী এক মাঠ সাংবাদিক হিসেবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি সক্রিয়। জলবায়ু সচেতনতা, দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি, শিক্ষা সহায়তা, মানবিক উদ্যোগ—সবখানেই তাকে পাওয়া গেছে। শুধু সংবাদে নয়, বাস্তবতাতেও তিনি ছিলেন মানুষের পাশে।

সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তারিক লিটু বলেন, “এই পদক শুধু আমার নয়, এটা দেশের প্রতিটি মফস্বল সাংবাদিকের; যারা প্রতিদিন প্রতিকূলতার মধ্যেও কলম ধরে রাখেন। সাংবাদিকতা সত্যের পক্ষে হতে হবে—যেকোনো মূল্যে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা মাঠে কাজ করি, তাদের সত্য বলার পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। সেটি নিশ্চিত হলে সবাই উপকৃত হবে।”

লেখক