আহসান হাবীব নাহিদ, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের আলোচিত খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের নাপিতের বাজারে চা সিঙ্গারার বাকী টাকা চাওয়া সংক্রান্ত জের কে কেন্দ্র করে ১৩ আগষ্ট বুধবার দু’জনকে গুলির ঘটনা ঘটে এনিয়ে ১৪ ই আগষ্ট বৃহস্পতিবার সাদুল্লাপুর থানায় The Arms Act,1878 এর 19A তৎসহ পেনাল কোর্ড ১৮৬০ আইনের ৩২৬/ ৩০৭/ ৫০৬/৩৪ ধায় একটি মামলা রুজু হয় যাহার (মামলা নং১৫)।
দু’জনকে গুলিবিদ্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল হাতে নিয়েই পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে থাকা আসামী গোলাপ কে গ্রেফতার ও ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ছয়দিনের দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে ১৯শে আগষ্ট মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা’র দিকনির্দেশনায় ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ সার্কেল বিদ্রোহ কুমার কুন্ড’র সার্বিক সহায়তায় সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তাজউদ্দীন খন্দকারের তত্বাবধানে গাইবান্ধা জেলা দায়রাজজ কোর্ট এলাকা থেকে সঙ্গীয় ফোর্স সহ আসামী গোলাপ (৩৬) কে গ্রেফতার করেন সাদুল্লাপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্দুস সবুর।
পরে আসমী গোলাপ এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী সঙ্গীয় ফোর্স সহ এস আই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্দুস সবুর দুপুর ১টায় জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৮নং ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুজরুক রুহিয়া হা-মীম্ আদনান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড এর চেকপোস্ট ঘরের পিছনে মাটির নিচ থেকে লুকিয়ে রাখা দু’জনকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তল সহ দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে আসামী গোলাপ কে বিজ্ঞ আদালত সোপর্দ করেন আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
উল্লেখ্য ১৩ আগষ্ট ২০২৫ ইং বুধবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ১১নং খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের নাপিতের বাজারে অবস্থিত দক্ষিণ চকদারিয়া গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে ওয়াসিমের চা দোকানে এসে একই গ্রামের মৃত তয়েজ উদ্দিনের ছেলে গোলাপ (৩৬) চা সিঙ্গারা খেয়ে টাকা না দিয়েই চলে যেতে ধরেন এসময় দোকানী ওয়াসিম তারকাছে চা সিঙ্গারার টাকা চাইলে পরে দিবেন বলে জানান গোলাপ কিন্তু প্রায়দিন এসে খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে বাকী দিবেন না বলে পূর্বের বাকী টাকা সহ চা সিঙ্গারার টাকা দিয়ে যেতে বলেন এতে করে গোলাপ চড়াও হলে দোকানী ওয়াসিম ও গোলাপ এর মাঝে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের ধাক্কাধাক্কি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এতে করে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে বাসায় গিয়ে পিস্তল এনে দোকানী ওয়াসিমকে গুলি করেন গোলাপ। গুলি ওয়াসিমের পুরুষ অঙ্গের অন্ডকোষে লেগে বাহির চলে যায়। গুলির শব্দে আসপাশের লোকজন ছুটে এসে ওয়াসিম কে মাটিতে পরে থাকতে দেখে ও পিস্তল হাতে গোলাপ চলে যাচ্ছে দেখে স্থানীয় লোকজন গোলাপ কে আটকের চেষ্টা করেন এতে করে স্থানীয় লোকজনদের কেও ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি করার চেষ্টায় এগিয়ে যেতে ধরলে গোলাপের বড় ভাই মজিদের স্ত্রী ভাবী সেলিনা আক্তার বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেলিনা আক্তার কেও গুলি করেন গোলাপ গুলিটি সেলিনা আক্তারের পায়ের রানে লেগে এপাশ থেকে ওপাশে বাহির হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখতে পেয়ে পিস্তল হাতে নিয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে জান গোলাপ।
স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ আহত ওয়াসিম ও সেলিনা আক্তার কে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ সার্কেল বিদ্রোহ কুমার কুন্ড, সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, ধাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সহ সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আসামী গোলাপ কে গ্রেফতার ও ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।