ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিক্ষার্থী – হুমকিতে এলাকাছাড়া

মো. মুক্তাদির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার:

 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছরের  শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

এই ঘটনায় ঐ শিক্ষক ও তার লোকজনের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভিকটিম শিক্ষার্থীসহ তার পরিবার ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্ষিতা  শিক্ষার্থীর বয়স যখন ৬ বছর তখন তার বাবা- মা মেয়েকে বাড়ীর নিকটের একটি নুরানি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন । তার পর থেকে একই মাদ্রাসার শিক্ষক শিবনগর গ্রামের জৈনক আব্দুল হাকিমের ছেলে  সালাউদ্দিন হুজুর (৩৫)  ওই  শিক্ষার্থীদের বাড়ীতে গিয়ে নিয়মিত তাকে প্রাইভেট পড়াতেন ।

শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়,  গত ০২-০৬- ২০২৬ইং তারিখ সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় ওই  শিক্ষার্থী নিজ বাড়ী থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশে রওয়ানা দেন । কিছুদূর যাওয়ার পরে তার সামনে এসে হাজির হন সালাউদ্দিন হুজুর । এর পরে সেখান থেকে কৌশলে ওই  ছাত্রীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় । এদিকে মাদ্রাসা ছুটির দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও ঐ শিক্ষার্থী বাড়ীতে ফিরে না আসায় তার বাবা- মা মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নিলে মাদ্রাসা থেকে তাদের জানানো হয় ওই শিক্ষার্থী ঐদিন মাদ্রাসায় আসেনি ।

পরে তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন । এক পর্যায় লোক মুখে ওই শিক্ষার্থীর বাবা- মা  জানতে পারেন যে তাদের মেয়েকে তার শিক্ষক সালাউদ্দিন হুজুর রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন । এর পরে তারা সালাউদ্দিন হুজুরের বাড়ীতে গিয়ে তাদের মেয়ের বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু সালাউদ্দিন হুজুরসহ তার পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা কোন সদুত্তর না দিয়ে তাদের বিভিন্ন রকম হুমকি- ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন ।

এর পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা- মা মেয়ের সন্ধানে আরও কয়েকবার যান সালাউদ্দিন হুজুরের বাড়ীতে। কিন্তু সালাউদ্দিন হুজুরসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতিবারেই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে ও বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেন। এদিকে মান সম্মানের কথা চিন্তা করে মেয়ের বাবা- মা প্রথম দিকে তেমন কাউকে জানাননি। এই ভাবে প্রায় সপ্তাহ খানেক কেটে গেলে তারা কোন উপায়ন্ত  না পেয়ে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানান।

পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও তিন চারদিন চেষ্টা করে ওই শিক্ষার্থীকে সালাউদ্দিন হহুজুরের কাছ থেকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ওই শিক্ষার্থীর বাবা মাকে নিকটস্থ শিবগঞ্জ থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শক্রমে শিক্ষার্থীর বাবা মা ১৪ই জুন থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দ্বায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরের দিন থানার এ এস আই শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গিয়ে সালাউদ্দিন হুজুরের বাড়ী থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন এবং মোবারক পুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বর বাবুল আলীর নিকট হস্তান্তর করেন।

পরে মেম্বর বাবুল আলী ওই ছাত্রীকে তাদের বাবা- মার কাছে বুঝিয়ে দেন। এর পরের দিন সালাউদ্দিন হুজুর ২০/৩০ জন অজ্ঞাত লোকজনকে সাথে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়ীতে এসে শিক্ষার্থীকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীর বাবা বাড়ীতে না থাকায় শিক্ষার্থীর মা ও নানি তাদের বাধা দেন। তাদের বাধা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীর নানি আহত হন।

এসময় তাদের ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সালাউদ্দিন হুজুর ও তার লোকজন ২৪ ঘণ্টার ভিতর ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় তুলে নিয়ে যাবেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রানে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এর পরে শিক্ষার্থীর মা ও নানী শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রানের ভয়ে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছেড়ে তাদের এক আত্মীয়র বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে মোবাইলের মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। তারপর তারা পুনরায় থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন । এদিকে সালাউদ্দিন হুজুর ও তার লোকজন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন এবং থানার আশেপাশে অবস্থান নেন বলে জানান, শিক্ষার্থীর মা। তখন তারা নিরাপত্তাহীনতায়র কারনে থানায় জেতে পারেননি। এই ভাবে সপ্তাহ খানেক অতিবাহিত হলে সুযোগ বুঝে গত ৩০শে জুন শিক্ষার্থীর মা- নানী ও তাদের এক আত্মীয় শিবগঞ্জ থানা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানান। এর পরে সেখান থেকে তাদের থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেন। পরে তারা পুনরায় থানায় গিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে দেখা করেন এবং ধর্ষণ আইনে মামলা করতে চান। কিন্তু থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) তাদের মামলা না নিয়ে তাদের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। এর দুইদিন পরে শিবগঞ্জ থানার এ এস আই স্বপন কুমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই শিক্ষার্থীর বাড়ীতে এসে শিক্ষার্থীকে খোঁজাখুঁজি করেন। এসময় শিক্ষার্থীর মা তার মেয়েকে খোঁজাখুঁজির কারন জানতে চাইলে এ এস আই স্বপন কুমার জানান, সালাউদ্দিন হুজুর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাই তারা ওই শিক্ষার্থীকে খুঁজছেন। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীকে বাড়ীতে না পেয়ে তার পরিবারকে ৩ দিনের ভিতর ওই শিক্ষার্থীকে হাজির করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে চলে যান। 

পরে শিক্ষার্থীর পরিবার কোন উপায়ন্ত না পেয়ে ৬ই জুলাই ২০২৬ইং তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে গিয়ে ধর্ষণ আইনে একটি মামলা দ্বায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উক্ত বিষয়ে নিকটতম থানায় মামলাটি না নেওয়ার কারন জানতে চেয়ে থানার ওসিকে আগামি ২০ই জুলাই ২০২৬ইং তারিখের ভিতর লিখিত ভাবে জবাব দেওয়ার জন্য আদেশ দেন  

উপরোক্ত বিষয়ে সালাউদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেন নাই। খুদে বার্তা দিলেও তিনি খুদেবার্তার উত্তর দেননি।

লেখক