নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৫ নম্বর বিশা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে।
এতে অল্প সময় ও কম খরচে বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও আস্থা। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবার মানও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতি বুধবার সকাল ১১টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। মামলা দায়েরের পর দ্রুত শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার এই ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ থেকে অনেকটাই রেহাই পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। আবেদনকারী ও বিবাদী—উভয় পক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এতে দায়িত্ব পালন করেন। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারী সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনার পর আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খাঁন বলেন, ‘গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি জানান, ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস এ ইউনিয়নে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবা চালুর পাশাপাশি নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিজমা, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে অনেক সময় মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে থাকেন। গ্রাম আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমের কারণে এসব বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আদালতমুখী জটিলতা ও ব্যয় কিছুটা কমেছে।
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনার ফলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। দ্রুত শুনানি ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা স্বস্তি পাচ্ছেন। তাঁরা মনে করেন, এ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে সহজে ও দ্রুত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে।
চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খাঁনের সঙ্গে এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোমেন্দ্র নাথ, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর এস এম শাহীন, গ্রাম আদালতের পেশকার হাসিবুল ইসলাম, উদ্যোক্তা মো. নয়ন প্রামাণিক, ইউপি সদস্য মো. সুলতান প্রামাণিক, ফরহাদ আলী, হানিফ আলী চান, আমজাদ প্রামাণিক, ইদ্রিস আলী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. বিউটি বেগম, শ্রীমতি সুচিত্রা ও শিল্পী কলিদাস মালাকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত ও আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে তৃণমূল পর্যায়ে বিচারপ্রাপ্তি সহজ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।