প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দারিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৮০ লাখ লোক দারিদ্র সীমার নিচে চলে গেছে। এই অবস্থা থেকে উঠতে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মাস কার্ড একটি যুগান্তরকারী প্রদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মাস কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র পরিস্থিতির যেমন উন্নতি ঘটবে আবার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। বিনিয়োগের জন্য দরকার জ্বালানি নিশ্চয়তা। আমরা জানি ভুল নীতি ও আমদানি নির্ভর চালু রাখার কারণে আমাদের এই ধরণের পরিস্থিতির মধ্যে পরতে হয়েছে। তারপরও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। একারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসছে।
উপদেষ্টা বলেন, সবচেয়ে সহজ ছিল সৌর বিদ্যুত। এখানে বিনিয়োগ করা যেত। এক্ষেত্রেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ পতিত সরকার একটি স্বজনতোষী ও পৃষ্টপোষকতামূলক অর্থনীতি জারি রেখেছিল। ৪০ বিলিয়ন ডলার লাগবে ব্যাংক ব্যবস্থা ঠিক করতে। এই পরিমান অর্থ তারা লুট করেছে। একইভাবে আমাদানি নির্ভর অর্থনীতি তারা চালু রেখেছিল। কোন গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। আমাদের ভবিষ্যত বংশধরকে রক্ষা করার জন্য জীবাশ্ম জালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে আমাদের সবার আগে দরকার জ্বালানি নিরাপত্তা। টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারত্ব বেড়েছে। প্রতিটি পরিবারে একধরণে হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন। সেখান থেকে উত্তোরণ ঘটাতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন করা হবে। সেকারণে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে শিক্ষাখাতে। এরপর পর্যায়ক্রমে তা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আর সেটা অবশ্যই টেকসই কর্মসংস্থান হতে হবে। আর টেকসই কর্মসংস্থানের মধ্যেই আগামী ৩৪ সালের মধ্যে যে ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হবে।
তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে আন্তর্জাতি মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক শর্ত দিয়ে অর্থ সহযোগীতা করত। কিন্তু এবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদের সংস্কারের উপর তারা সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে ব্যবস্থা থেকে উন্নত করা হবে।
কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। সরকার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অচল মিল কারাখানা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য চীন, জাপান, মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগযোগ করা হচ্ছে। এসব কারণে আমাদের দেশে একটি পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামি একবছরের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধারা দেখা যাবে।
এই সরকার দায়বদ্ধ। এই সরকার জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। সরকার কয়েক ধাপে দেশের অর্থনীতি পুর্নগঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের বাজেটের যে প্রতিশ্রুতিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইএফএমের নামে অনেক ভুল তথ্য দেশে ছড়ানো হচ্ছে। এটি থেকে সকলকে সাবধান হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য কর্মকর্তা রেখাসহ ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।