ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জয়পুরহাটের কালাইয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কালাই পৌরসভার টিএন্ডটি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে এ অভিযানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি। ‘নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ-আল-মাহবুব, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল আলম, কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম সাইফুল ইসলাম এবং কালাই সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মওদুদ আলম সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আলিম সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আনিছুর রহমান তালুকদার, ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. মোস্তা হাসান, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যক্ষ মো. তাইফুল ইসলাম ফিতা ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মো. খাইরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে বিডি ক্লিন ও বাংলাদেশ স্কাউটসের কালাই শাখার প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পৌর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় কালাই পৌরসভার সব ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির ভেতরে-বাইরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সপ্তাহে এক দিন প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত নিজেদের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। ডোবা, নালা, ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবিস্তার কমানোর পাশাপাশি পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে চলবে না। নিয়মিত উদ্যোগ ও জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের কর্মসূচির সুফল পাওয়া সম্ভব। এ সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সুন্দর জীবনযাপন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।