ব্রেকিং নিউজ আত্রাইয়ের হাটকালুপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবিসমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভবঃ রুহুল কবির রিজভীআত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে কাঁচাবাজার, ভোগান্তিতে ট্রেনযাত্রীরাসিরাজগঞ্জে অটোটেম্পু ও অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট গ্রহণ ৪ ডিসেম্বরআত্রাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মেধার দীপ্তিতে আলোকিত  আব্দুল ওহাব পাবলিক স্কুল, বৃত্তি পেল ৩৩ শিক্ষার্থী

মেনহাজুল ইসলাম তারেক
দিনাজপুর প্রতিনিধি :

স্বপ্ন দেখার সাহস, নিরলস অধ্যবসায় আর শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ইসলামপুরে অবস্থিত আব্দুল ওহাব পাবলিক স্কুল (কেজি)। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৩ জন বৃত্তি অর্জনের গৌরব লাভ করেছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এমন ঈর্ষণীয় সাফল্যে আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাজুড়ে।

এই অসামান্য অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে কেজি সোসাইটি পার্বতীপুরের উদ্যোগে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর, ২০২৬) বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সম্মিলিত মেধাবৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে এবং প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, আনন্দ-গর্বে মুখরিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল ওহাব পাবলিক স্কুলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম ফরহাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহফুজুল ইসলাম মাহফুজ, লেখক ও সাংবাদিক মেনহাজুল ইসলাম এবং অভিভাবক মনোয়ার হোসেন, আতিকুর রহমান ও সাথী আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি শিশুর মেধা বিকাশের পেছনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তাদের মনে রাখতে হবে—এই সাফল্য কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের দায়িত্বও। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নবাজ, অধ্যবসায়ী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নাদিম ফরহাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মুখে সাফল্যের হাসি দেখার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আজকের এই অর্জন আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং আলোকিত, নৈতিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেই আমাদের এই আয়োজন।”

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহফুজুল ইসলাম মাহফুজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাফল্যই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই ছোট ছোট মুখের হাসির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও সাধনার সার্থকতা। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই সাফল্য আমাদের আগামী দিনের পথচলাকে আরও দৃঢ় করবে।”

লেখক ও সাংবাদিক মেনহাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বই মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু, আর জ্ঞানচর্চা মানুষের মননকে আলোকিত করে। পরীক্ষায় বৃত্তি পাওয়া অবশ্যই আনন্দের, তবে জীবনের প্রকৃত বৃত্তি হলো নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল জ্ঞানচর্চায়ও মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজকের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই নির্মিত হবে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ।”

অভিভাবক মনোয়ার হোসেন বলেন, সন্তানদের সাফল্যে অভিভাবকদের আনন্দের কোনো সীমা থাকে না। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টা। সন্তানদের ওপর অযথা চাপ না দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়ানোই অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব।

আতিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষিত মানুষ তৈরি করে না, বরং সমাজকে আলোকিত করার মতো যোগ্য নাগরিকও তৈরি করে। আব্দুল ওহাব পাবলিক স্কুলের এই অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ ধারা অব্যাহত থাকুক, এটাই প্রত্যাশা।

অভিভাবক সাথী আক্তার বলেন, প্রতিটি শিশুই অপার সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। সঠিক পরিচর্যা, ভালোবাসা ও উৎসাহ পেলে তারাই একদিন নিজেদের স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে পারে। আজকের এই সংবর্ধনা শিশুদের মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাফল্যের পরিসংখ্যানেও উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্মিলিত মেধাবৃত্তিতে ১১ জন, সাধারণ গ্রেডে ১৬ জন এবং ট্যালেন্টপুলে ৬ জনসহ মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

একটি ছোট্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এমন অর্জন নিঃসন্দেহে বড় প্রেরণা। এই সাফল্য শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিজয় নয়; এটি শিক্ষকদের নিষ্ঠা, অভিভাবকদের ত্যাগ, প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনার পাশাপাশি বক্তারা শিক্ষার আলো প্রতিটি শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সত্যিই, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ অলংকার তার শিক্ষার্থীদের সাফল্য। আর সেই সাফল্যের আলো যখন ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, সমাজ ও জনপদে, তখন তা হয়ে ওঠে সবার গর্বের গল্প। আব্দুল ওহাব পাবলিক স্কুলের ৩৩ ক্ষুদে মেধাবীর এই অর্জন তেমনই এক গর্ব, অনুপ্রেরণা ও সম্ভাবনার গল্প।

লেখক