রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীতে পিক আপ উল্টে প্রায় মুরগীর ২৫ হাজার ডিম ভেঙে গেছে। ভাঙা ডিমে রাস্তা সয়লাব হয়ে গেছে। রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে রাত সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভূক্তভোগি ব্যবসায়ীর নাম আমিরুল ইসলাম। তিনি শরীয়তপুরের নলিয়া উপজেলার বাংলাবাজার এলাকা বসবাস করেন। সেখানেই তিনি ডিমের ব্যবসা করেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। তিনি নিজেই পিকআপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সরেজমিনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেখা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পিকআপ (খুলনা মেট্টো ন-১১-০৯৫৯) উল্টে পড়ে আছে। রাস্তার দক্ষিণপাশে গতিরোধক দেওয়া হয়েছে। ডিমের কুসুম ও তরল অংশ নালায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যানবাহন রাস্তার অন্য পাশ দিয়ে যাতায়াত করছে। সাত-আটজন যুবক, নারী ও শিশু ডিম তুলছে। ডিমের খোসা পড়ে আছে। শিশুরা প্যাকেটে ডিমের কুসুম জড়ো করছে। কিছু মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ডিম তোলা দেখছে। ভালো ডিম ও ডিম রাখার খালি বাক্স রাস্তার পাশে জড়ো করা হচ্ছে।
আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি পাবনা থেকে ৩৬ হাজার ডিম কেনেন। ডিম নিয়ে শরীয়তপুরের নলিয়ায় যাচ্ছিলেন। রাত ১টায় পাবনা থেকে রওনা দেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ী শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে গাড়ির এ´েল ভেঙে চাকা গাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে গাড়িটি উল্টে যায়। গাড়ির মধ্যে থাকা ২০ থেকে ২৫ হাজার ডিম ভেঙে গেছে। সকাল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালো ডিম উদ্ধার করা শুরু হয়। এতে আমার তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দুর্ঘটনার পাশের বাসিন্দা খান মো. মাসুদ। তিনি রাস্তার পাশে ফার্মেসী চালান। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে। রাস্তায় এসে দেখি গাড়ি উল্টে গেছে। গাড়ির ডিম ভেঙে গেছে। গাড়ির চালক ও সহকারী আঘাত পেয়েছে। তবে শারীরিক আঘাত তেমন গুরুতর নয়। সকালে স্থানীয়দের ডেকে ডিম বাছাই করার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি রিকশা চালাই। দোকানদার চাচা বললেন, ডিম তুলতে সহায়তা করার জন্য। একারণে আমি ডিম তুলে দিচ্ছি। এক সঙ্গে এতো ভাঙা ডিম আমি জীবনে কখনো দেখি নাই।
স্থানীয় বাসিন্দা পিয়াল মন্ডল বলেন, আমি ইজিবাইক চালাই। দেখলাম, লোকটি খুব বিপদে পড়েছে। এরপর আমি তাকে সহায়তা করছি। বেশির ভাগ ডিম ভেঙে গেছে। কিছু ডিম আংশিক ভেঙে গেছে। আর কয়েক হাজার ডিম অক্ষত রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে আমি এখানে কাজ করছি।