রাজবাড়ীঃ
মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা কমিটি বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১২ দফা সুপারিশ জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি পূর্ণিমা দত্ত ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নমিতা দাসের সই করা প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সুপারিশ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবাজারে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। সহায় সম্বল হারানো ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যবসায়ী, তাদের পরিবার ও কর্মচারীদের বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখা গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি।
প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে, মার্কেট,
স্থাপনা, গার্মেন্টস, গুদামঘর, কারখানা, বাড়িঘরে
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মুহুর্তে ভস্মীভূত হচ্ছে। প্রাণহানী ঘটছে অসংখ্য মানুষের। নিজের সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা অনেকেই লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে, কেউ নিজস্ব সব পুঁজি বিনিয়োগ করে দোকানে মালামাল তুলে কেনাবেচা করছিলেন।
হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা, অন্নসংস্থান এই ব্যবসার সাথে জড়িত। পরিবার-পরিজন নিয়ে পবিত্র ঈদ পালনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। সাথে সচল হচ্ছিল দেশের অর্থনীতি।
কিন্তু নিমিষেই খানখান হয়ে গেছে তাদের সব স্বপ্ন, আশা ভবিষ্যত। তাদের আর্তনাদ আর হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে বঙ্গবাজারের আকাশ বাতাস।
অগ্নিনির্বাপনের জন্য স্থাপনার কাছাকাছি উম্মুক্ত
জলাধার/পুকুর/লেকে পর্যাপ্ত পানি মজুত রাখার ব্যবস্থা করে ফায়ার ব্রিগেডকে দ্রæত কাজ করার ব্যবস্থা করা। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদামঘরের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আগুন লাগার
মুহুর্তেই জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য জোরালো হর্নযুক্ত এ্যালার্মিং সিস্টেম চালু করা। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সকল স্থাপনায় আপদকালীন সময়ের জন্য বহুমুখী দরজা ও ইমার্জেন্সি
নির্গমন পথের ব্যবস্থা করা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, সংকীর্ণ পথ ও ঘিঞ্জি এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ। বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে জরুরীভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা
করা ও অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের যথার্থ কারণ উদঘাটন ও সে মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ। ফায়ার ব্রিগেড কর্মীসহ যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
এবং অগ্নিকান্ড বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন ও নিরাপত্তার ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।