ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীর পাংশায় শিক্ষক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার- ৫, অস্ত্র উদ্ধার

 রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, টাকা ছিনিয়ে নিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী শাহানারা বেগম বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আট-দশকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত শিক্ষকের নাম মিজানুর রহমান (৪৫)। তিনি পাংশা উপজেলার কলিমোহর ইউনিয়নের বসাকুষ্টিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মন্ডলের ছেলে। মিজানুর পাংশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিন সন্তানের জনক মিজানুর শিক্ষকতার পাশাপাশি হোসেনডাঙ্গা বাজারে সার, কীটনাশক ও ভূসি মালের ব্যবসা করতেন।
 গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন পাংশা উপজেলা কলিমোহর ইউনিয়নের হাটবনগ্রামের কলম শেখের ছেলে শাকিবুল হাসান (১৮), আনন্দ সরকারের ছেলে আকাশ সরকার (১৯), ইন্দ্রজিত সরকারের ছেলে রামপ্রসাদ সরকার, অজিত সরকারের ছেলে বিজয় কুমার সরকার (১৯) ও অরবিন্দু সরকারের ছেলে বাদল সরকার (১৯)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। তিনি বলেন, ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই ওৎপেতে ছিল। মিজানুরের কাছে টাকা না পেয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার পাঁচজন পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক জানা গেছে, মূলত হালখাতার টাকা ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন সাহা, জেলা বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিআইও-১) সাইদুর রহমান, পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনডাঙ্গা বাজারে মিজানুর রহমানের সার-কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রিন্স ট্রেডার্সে রোববার হালখাতা ছিল। তিনি ব্যবসায়িক কাজ সেরে রাতে মোটর সাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় তাঁর মোটর সাইকেলে আরও দুইজন ব্যক্তি ছিলেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দুরে বলাই বিশ্বাসের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে পৌছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে। মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে মিজানুর রহমানের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কথা বলার একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে মুখোশধারী হামলাকারীরা চলে যায়। পরে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী শাহানারা বেগম বলেন, রোববার বিকেল তিনটার দিকে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি (মিজানুর) দোকানে যান। বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে ভালো মানুষ গেল। ফিরতে হলো লাশ হয়ে। আমাদের সবকিছু তছনচ হয়ে গেলো। আমার স্বামী নিজের মতো চলাফেরা করতেন। প্রতিবাদী ছিলেন। তাঁর তেমন কোনো শত্রু ছিল না। হোসেনডাঙ্গা বাজারে আমাদের দোকানের পাশের দোকানদার অসীত বিশ্বাসের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। রোববারও জমির বিষয়ে ফোনে কথা বলতে শুনেছি। আমি বারবার এসব জমি কিনতে নিষেধ করতাম।

লেখক