ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

যশোরে স্বামীর শরীরে এসিড পুশ করে হত্যা,অভিযুক্ত শেফালীর দায় স্বীকার

এম এ রহমান যশোর:

যশোরে পরকীয়ায় জড়িয়ে পথের কাটা স্বামীকে অভিনব কৌশলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী। প্রথমে খাবারের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট ও পরে ঘুমন্ত দেহে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি থেকে নিসৃত অ্যাসিড পুশ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম জহির হাসান। তিনি যশোর শহরের হুশতলার মৃত হোসেন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি চশমার মেকার ছিলেন। অভিযুক্ত স্ত্রী শেফালী বেগম শহরে একটি ক্লিনিকে আয়ার কাজ করেন। পুলিশ তাকে আটক করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার জহির হাসানকে যশোর জেনারেল হাসপাতারে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই শাওনেওয়াজ বলেন-ভাইকে হত্যা করে হার্টএ্যাটাক করেছে বলে প্রচার দেয় স্ত্রী শেফালী বেগম। কিন্তু আমাদের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দিই। তাৎক্ষণিক পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তাজুল জানান, শহরের শংকরপুরের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পক রয়েছে নিহত জহির হাসানের স্ত্রী শেফালী বেগমের। এ নিয়ে সোমবার স্বামী জহিরের সঙ্গে তার গোলযোগ হয়। তারপরই শেফালী স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।
তিনি আরও বলেন-আসামী শেফালীকে গ্রেফতার করে তার স্বীকার মতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত হিসিবে ভাঙ্গা মোবাইল, ব্যাটারির অংশ বিশেষ, নিহতের ঘর থেকে এবং মনিহার ফলপট্টি রোড থেকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ঘুমের ঔষের খালিপাতা এবং আসামীর কর্মস্থল মাতৃসেবা ক্লিনিক থেকে নমুনা সিরিঞ্জ ও ঘুমের ঔষধ জি-ডায়াজিপাম ৫ মিলিগ্রাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই গাজী শাহনেওয়াজ কোতয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৩৬, তাং- ১০/০৫/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা- ৩২০/ ২০১/ ৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
এদিকে, আজ বুধবার (১০ মে) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন অভিযুক্ত শেফালী বেগম হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বলেছে হত্যার কৌশলের কথাও।
যশোর পুলিশের এই উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন-শেফালী বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হতো। ঘটনার দিনও জহির হাসানের সাথে শেফালীর ঝগড়া হয়। এদিন স্বামীকে হত্যার পরিকল্পণা চূড়ান্ত করে শেফালী। তিনি প্রথমে স্বামী জহির হাসানের খাবরের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। ঘুমিয়ে পড়ার পর মোবাইলের ব্যাটারির থেকে অ্যাসিড বের করে ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীরে পুশ করে। এতেই জহিরের মৃত্যু হয়। শেফালী তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা ডিবির ওসি রুপন কুমার সরকার ও কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জহিরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে ইনজেকশনের ক্ষত দেখা গেছে। ক্ষত থেকে রক্তপাত হবার চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

লেখক