ওয়াসিম শেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
হ্যালট শ্রেণির সরকারি জায়গার আংশিক অংশে অবস্থিত অবৈধ দখলদার ও অবৈধভাবে নির্মিত ঘরবাড়/দোকান উচ্ছেদের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযানের আগেই তড়িঘরি করে রাস্তা নির্মাণ শেষ করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে উচ্ছেদ না করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে যে উদ্দেশ্যে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। এভাবে রাস্তা নির্মাণ হলে এই রাস্তা থেকে কোন সুফল পাবে না জনসাধারণ। সরকারি হ্যালট থেকে রাস্তা উদ্ধার করার জন্য এলাকাবাসী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। লিখিত অভিযোগের আলোকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তৃক বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়েছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কর্তৃক বাগবাটী ইউনিয়নের ঘোড়াচড়া ইটের ভাটার দক্ষিণ হতে হাজী আব্দুর রহমান সরকারের মসজিদ পর্যন্ত প্রস্ত ১.৯০ মিটার ও ১১৮ দৈর্ঘ্য আরসিসি রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়। অনুমোদনের সাথে সাথে সরকারি হ্যালটে দখলমুক্ত করতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগের আলোকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাধীন বাগবাটি ইউনিয়নের অন্তর্গত ঘোড়াচড়া মৌজায় আর এস ০১ নং খতিয়ানের আরএস ২৯৮১নং দাগের .০৫৮ একর হ্যালট শ্রেণির সরকারি জায়গার আংশিক অংশে অবস্থিত অবৈধ দখলদার ও অবৈধভাবে নির্মিত ঘর বাড়ী/দোকান উচ্ছেদের লক্ষ্যে মুশফিকুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিরাজগঞ্জ কে নিয়োগ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
সরেজমিনে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাধীন বাগবাটী ইউনিয়নের ঘোড়াচড়া ইটের ভাটার দক্ষিণ দিয়ে ঘোড়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১.৫ কিলোমিটার সরকারি হ্যালট রয়েছে। এই সরকারি হ্যালট দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ৩ হাজার জনসাধারণ যাতায়াত করে। কিন্তু মৃত হোসেন পুত্র মতিয়ার রহমান (৫০), মতিয়ার রহমান এর পুত্র আবুল হাশেম (৩০) ও আব্দুল হান্নান (২৬) সরকারি হ্যালট বেদখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে। অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার ফলে ১৫০ মিটিার সরকারি হ্যালট ব্যবহার না করে ঘোড়াচড়া ইটের ভাটার মধ্যে প্রবেশ করে পুনরায় আবার হ্যালট দিয়ে যাতায়াত করে স্কুল-মাদ্রাসা ও সাধারণ মানুষগণ। কিন্তু বাগবাটী ইউনিয়নের ঘোড়াচড়া গ্রামের মৃত হোসেন পুত্র মতিয়ার রহমান (৫০), মতিয়ার রহমান এর পুত্র আবুল হাশেম (৩০) ও আব্দুল হান্নান (২৬) সরকারি হ্যালটের দৈর্ঘ্য ১০ মিটার রাস্তার প্রস্তে ১ মিটার রাস্তা দখল করে ঘরবাড়ির করেছে। ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পূর্বে প্রকল্পের ঠিকাদার দৈর্ঘ্যে ১০ মিটার পর্যন্ত ও প্রস্তে ১.৯০ মিটার পরিবর্তে ০.৯০ মিটার রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি হ্যালটে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ না করে যদি রাস্তাটি নির্মাণ করা হয় তবে, রাস্তা দিয়ে কোন ভ্যান-রিক্সা এমনকি জানাযা করার জন্য মানুষের মরদেহ কবরস্থানের নিয়ে যাওয়ার জন খাট বের করা যাবে না। অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালনা করে দ্রুত সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বাগবাটী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোমিন বলেন, মিমাংসার জন্য আমরা এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে ৬বার শালিস করেছি। কিন্তু মতিয়ার শালিস মানে না। এমনকি ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু অনুদানের কথা বলেছি, তবুও মতিয়ার রহমান গায়ে জোরে ঘরবাড়ি সরকারি হ্যালটে রেখে দিয়েছি। বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে দ্রুত সমাধানের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মানুষের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে সিরাজগঞ্জ সদর পরিষদ থেকে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই ১০ মিটার রাস্তার অবৈধ উচ্ছেদ না করা হয় তবে এই রাস্তা কোন কাজে আসবে না।
উচ্ছেদ অভিযানের নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা বাদ আছে। সম্পূর্ণ তথ্য উপাত্ত নিয়ে সরকারি হ্যালটের জায়গা উদ্ধার করে দেওয়া হবে।