ব্রেকিং নিউজ পল্লী বিদ্যুতের বিলে পুরোনো বকেয়ার ছড়াছড়ি; সফটওয়্যার ত্রুটির অভিযোগে বিপাকে হাজারো গ্রাহকবিশ্ব বাবা দিবসে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক শ্রাবণ মাহমুদের আবেগঘন নিবেদনে কবিতা ‘বাবা’ আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা; অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণরাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধারকাঁচা বাঁশ দিয়ে জাম পারতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষকের মৃত্যু

আজ মহাঅষ্টমী পূজামণ্ডপে দেবী আরাধনায় অঞ্জলিতে ব্যস্ত ভক্তরা

 রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ। ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হলেও সপ্তমী থেকেই মূল পূজা শুরু হয়। আজ অষ্টমীতে অঞ্জলি শুরু হয় সব মন্দিরে। দেবীর অন্নভোগ আরম্ভ এবং দেবীকে ষোড়শ উপাচারে পূজিত করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতেই দেবী জাগ্রত হয়ে অশুভ শক্তি দমন করেন।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এবার দেবী গজ বা হাতিতে চড়ে আসছেন। এর প্রতীকী অর্থ— মর্ত্যলোক ভরে উঠবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।
সকালে নবত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়। কদলী (কলা), কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মান ও ধান এই নয়টি উদ্ভিদকে একত্র করে কলাবউ রূপে দেবীর ডান পাশে প্রতিস্থাপন করে পূজা করা হয়। পরে দেবীকে স্নান, চক্ষুদান, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্প, চন্দন, ধূপ ও দীপ নিবেদন করে আরাধনা করা হয়।
রাজবাড়ীতে এ বছর পাঁচটি উপজেলায় ৪৪০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ভিড় দেখা গেছে।
ধুন্ঞ্চী পূর্ব পাড়া সার্বজনিন দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত কুমার বিশ্বাস রাহুল বলেন, আমরা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি ৮ বছর অনেক চরাই উতরাই করে সবার সহযোগিতায় আজ মন্দির একটা জায়গায় এসেছে। এলাকাবাসী খুশি যার ফলে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে দূর্গা পূজা উদযাপন করছি যার জন্য হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের পদার্পন ঘটে। আমরা এর আগে ৭৬ খন্ড, ৮৬ খন্ড, ১০৮ খন্ড প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এবছর মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ছোট পরিসরে করেছি। আশাকরছি আগামী বছর সবার সহযোগিতায় আবারও বড় পরিসরে করতে পারবো সবাই আমাদের মন্দিরে আসবেন আশাবাদী।

শুভ মহা অষ্টমী উপলক্ষে চাঁদপুর সার্বজনীন দূর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে  আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, দেবী দূর্গা মাতার আগমনে আমরা শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনা করি। এই পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সর্বজনীন মিলনমেলা—যেখানে সবার মাঝে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়। আমরা বিশ্বাস করি, দেবী দুর্গার আশীর্বাদে অসুরের বিনাশ ঘটবে, অশুভ শক্তির অবসান হবে এবং সত্য, সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। আজকের এই মহা অষ্টমীর পবিত্র দিনে আমরা সবাই মিলে শপথ করি—ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশে যেন চিরকাল শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন অটুট থাকে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চন্দনী ঠাকুর বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বাবু কার্ত্তিক চন্দ্র দাস বলেন, ঐতিহ্য বহন করে আমাদের এ মন্দিরে জাঁকজমক ভাবে দূর্গা পূজা অর্চনা করা হয় বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তবৃন্দের পদভারে মুখরিত হয় উৎসব অঙ্গন, মন্দিরের আগন্তুক ভক্তগন বলেন প্রতিবছর এই জাগ্রত মন্দিরে বিভিন্ন রকমের মানত করেন এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মা দূর্গার আরাধনা করেন। এই মন্দিরটি ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পূর্ণভূমি এখানে বানিজ্য পথে ঐতিহাসিক চাঁদ সওদাগর সহ বড়ো বড়ো মনিষীগন প্রার্থনা করতেন সেই থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এখানে দূর্গা পূজা অর্চনা সহ বিভিন্ন পূজা করা হয়, দূর্গা পূজায় সর্বপ্রকার ভক্তবৃন্দ প্রসাদ গ্রহণ করেন যা এই মন্দিরের একটি প্রচলিত রীতি। সভাপতি বাবু শৈলেন দাস বলেন, চন্দনী ঠাকুর বাড়ি দূর্গা পূজা মন্দির চন্দনী ইউনিয়নের প্রাচীন মন্দিরের একটি এখানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা প্রতিবছর দূর্গা পূজা অর্চনা করে থাকি, বিভিন্ন এলাকা থেকে এই দেবালয়ে অনেক কষ্ট করে ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে লোকজন আসা যাওয়া করে, বিভিন্ন সময় দূর্ঘটনার শিকার হয়, এজন্য রাস্তাটাও সংস্কার জরুরি, সবাই কে শারদীয় শুভেচ্ছা।

লেখক