নরসিংদীর মনোহরদীতে বাইপাস সড়কের চলমান ঢালাই কাজকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে যান নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জানা যায়, গত বুধবার সকালে মনোহরদী পৌরসভার বাইপাস সড়কের দীর্ঘদিন পর ঢালাই কাজ শুরু হয়। এ সময় এক ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন যে, “বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার ঢালাই কাজ চলছে।” তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর শুরু হওয়া সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির কাছে এ ধরনের তথ্য প্রচারের কারণ জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলেও মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়রা থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান, পূর্বের ভিডিও মুছে ফেলেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় চলে যান। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে নিরাপদ স্থানে গিয়ে তিনি আগের লাইভ ভিডিওটি ডিলিট করে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন যে, যুবদল, ছাত্রদল ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কৌশলে কথা বলে তা সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করলে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় মনোহরদী বাইপাস সংলগ্ন মার্কেট মালিক ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আজিজুল হক মাষ্টার, মনোহরদী বাজার মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী মো. মানিক মিয়া, ঠিকাদার মোহাম্মদ বজলুল হক, ব্যবসায়ী রাজিব রায়সহ স্থানীয় সাংবাদিক ও শতাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঢালাই কাজ চলাকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তারা দাবি করেন, বিভ্রান্তিকর ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা। তদন্তে আসা জেলা যুবদল নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ধারণের বিষয়ে প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তি আবারও লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষমা চান এবং সবার সঙ্গে ছবি তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সম্মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যদিকে মনোহরদীতে কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন, কোনো প্রকৃত সাংবাদিক হামলা, মামলা বা হয়রানির শিকার হলে সাংবাদিক সমাজ সবসময় তার পাশে থাকবে। তবে বিভ্রান্তিকর ও কল্পনাপ্রসূত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানিত মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের নামধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তারা জানান। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রশাসন এবং মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মনোহরদীতে ‘বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই’ ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, তদন্তে ভিন্ন তথ্য
মো. হিমেল মিয়া,
মনোহরদী নরসিংদীঃ