গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলামের টানা তিন কার্যদিবস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা, ছুটির আবেদনপত্রে একাধিক তারিখের গরমিল এবং ছুটিকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বের বিতর্কিত কমিটিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার পায়তারার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট রোববার ও ৩১ আগস্ট সোমবার অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। সোমবার বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে গিয়ে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মোনায়েম-কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে স্থানীয়দের সামনে দায়িত্ব হস্তান্তরের লিখিত কাগজপত্র উপস্থাপন করা না হলেও অধ্যক্ষের একটি ছুটির আবেদনপত্র দেখানো হয়।
উপস্থাপিত আবেদনপত্রে দেখা যায়, কাগজটির উপরের অংশে ২৯/০৪/২০২৫ তারিখ উল্লেখ রয়েছে।
আবার মূল অংশে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ ২৬/০৮/২০২৬ থেকে ০৬/০৯/২০২৬ পর্যন্ত মোট ১২ দিন ছুটিতে থাকবেন এবং এ সময় সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মোনায়েমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই আবেদনে আবেদনকারী হিসেবে অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলামের স্বাক্ষরের পাশে ২০/০৬/২০২৬ তারিখ উল্লেখ রয়েছে।
একই কাগজে বিভিন্ন তারিখের এমন অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, পুরোনো কোনো ছুটির কাগজে ফ্লুইড বা সংশোধনের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ের তথ্য সংযোজন করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করে খোঁজখবর নিলে, তাদের দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনপত্রটির সত্যতা ও অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুরোনো বিতর্কিত কমিটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পায়তারার অভিযোগ
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে থাকা বিতর্কিত কমিটিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার পায়তারা চলছে। এ উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে গোপনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, একটি নির্দিষ্ট কমিটিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা বা অনুমোদনের লক্ষ্যে অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো আবেদন বা কমিটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানে নতুন করে বিরোধ ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কমিটি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, অভিভাবক সদস্যদের মতামত এবং প্রচলিত বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষের ছুটির আবেদন, দায়িত্ব হস্তান্তরের নথি এবং কমিটি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছবিতে থাকা ছুটির আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, ছুটিকালীন সময়ে সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মোনায়েমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকগণের সভার সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্ব অর্পণের নোটিশের ফটোকপি সংযুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অধ্যক্ষ মোঃ খাদেমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ও তন্তের মাধ্যমে ছুটির আবেদনপত্রের তারিখের অসঙ্গতি এবং কমিটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার অভিযোগের প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।