ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে প্রতারণার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নারায়নগঞ্জ থেকে মালামাল সহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে প্রতারণার ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। সদর থানা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন, মাসুদ হোসেন (৩২) ও শাহাদাৎ হোসেন (৩৪)। মাসুদ নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ শুলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম রুহুল আমীন মোল্লা। মাসুদ নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ থানার নওয়াপাড়া জামদানী বিসিক ৪ নম্বর গলিতে বসবাস করতেন। অপরজন শাহাদাৎ শরীয়তপুরের চরবাঘা ভূইয়াকান্দি গ্রামের আবুল সরদারের ছেলে। তিনি নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ থানার চনপাড়ায় বসবাস করেন। পুলিশের দাবি, প্রতারকদের কাছ থেকে ভূক্তভোগির খোয়া যাওয়া একটি মুঠোফোন এবং গলিত সোনা, নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুইজন একটি প্রতারণাচক্রের সদস্য। তারা প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে প্রতারণা করে। ১১ অক্টোবর শহরের বিনোদপুরের বাসিন্দা প্রিয়া আক্তার (২৫) নামে এক নারীর কাছ থেকে নগদ টাকা, সোনার গহণা ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। ওইদিন প্রতারক চক্রে তিনজন ছিল। তারা ফরিদপুর থেকে কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজারে যায়। মাজার থেকে ট্রেনে রাজবাড়ী রেলস্টেশনে আসে। এসময় এক প্যাকেট গুড়া সাবান কেনে। এরপর ওই নারীকে তারা টার্গেট করে। নারীর কাছে একটি মিষ্টির দোকানের ঠিকানা জানতে চায় রাজন নামে এক প্রতারক। রাজন ওই নারীকে জানায়, সে খুব বিপদে পড়েছে। একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতো। দোকান মালিক টাকা দিতো না। মারধর করতো। এজন্য মিষ্টির দোকান থেকে কিছু দামী রাসায়নিক নিয়ে পালিয়ে এসেছে। তাঁর কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই। এগুলো বিক্রি করতে পারলে বাড়ি যেতে পারবে। এসময় আরেক প্রতারক মাসুদ সেখানে উপস্থিত হয়ে রাজনের সঙ্গে থাকা রাসায়নিক খুব মূল্যবান তা নিশ্চিত করে। ওই নারীর সঙ্গে যৌথভাবে তা কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। এসব আলোচনার সময় সেখানে হোটেল মালিক হিসেবে পরিচয়দানকারী আরেক প্রতারক শাহাদাৎ সেখানে উপস্থিত হয়। তিনিও (শাহাদাৎ) এগুলো দামি রাসায়নিক পদার্থ। অনেক টাকা বিক্রি করা যাবে বলে প্রলুব্ধ করে। এরপর মাসুদ নিজের মুঠোফোনটি রাজনকে দিয়ে দেয়। এসময় ওই নারীও তাঁর মুঠোফোন, নগদ টাকা ও সোনার গহনা রাজন দিয়ে কথিত দামি রাসায়নিক কিনে নেয়। এরপর কৌশলে রাজন, মাসুদ ও শাহাদাৎ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই নারী। এরপর ১৫ অক্টোবর ভূক্তভোগি প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে।
এএসপি মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অচেনা কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮ অক্টোবর ভাইয়ের জামিন করাতে এসে প্রতারকের খপ্পরে পরে নগদ টাকা ও সোনার কানের দুল খোয়া যায় এক নারীর।

লেখক