ব্রেকিং নিউজ কালীগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় পলাতক এনসিপি নেতা আটকনাগেশ্বরী সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ, ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতেবাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না-এমপি ফজলুল হক মিলনসিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিচাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মামলা, গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ায় শিশু হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মোহাম্মদ আলী স্টাফ রিপোর্টার:

বগুড়ার ধুনটে শিশু তাবাচ্ছুমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে দণ্ডিতদের ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর রবিবার দুপুরে এই রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন, ধুনটের নশরতপুর এলাকার কলেজ পড়ুয়া বাপ্পী আহম্মেদ, কামাল পাশা, শামীম রেজা ও লাভলু শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী আশিকুর রহমান সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এজাহারের বরাতে আইনজীবী আশিকুর রহমান সুজন জানান, ধুনটের নশরতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন খোকন ও তার স্ত্রী মরিয়ম ডেইজি ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তাদের মেয়ে মাহী উম্মে তাবাচ্ছুম দাদা আব্দুস সবুরের বাড়িতে থেকে স্থানীয় পাঁচথুপি-নশরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থান চত্বরে দুই দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়।শিশু তাবাচ্ছুম তার দাদা ও ফুফুর সঙ্গে তাফসির শুনতে যায়। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে সে মিষ্টি কিনতে মঞ্চের পাশের দোকানে যায়। সেখানে খোকনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ থাকা কলেজছাত্র বাপ্পী আহমেদ তাফসিরে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বাপ্পী শিশুটিকে দেখতে পেয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি বাদাম কিনে দেওয়ার কথা বলে তাবাচ্ছুমকে স্থানীয় হাজী কাজেম জুবেদা টেকনিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে বাপ্পী তার তিন বন্ধু কামাল পাশা, শামীম রেজা ও লাবলু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া তাকে কোনো প্রাণী আক্রমণ করে হত্যা করেছে এমন প্রমাণ করতে প্লাস দিয়ে হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর মরদেহটি কাঁধে তুলে মঞ্চের কাছে বাদশা মিয়ার বাঁশঝাঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা খোকন অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাপ্পীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধকে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন বাপ্পী ও তার তিন বন্ধুকে পর্যবেক্ষণে রাখে পুলিশ। ২৫ ডিসেম্বর রাতে প্রথমে বাড়ি থেকে শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বাপ্পী, রেজা ও লাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চারজনই শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন।

এরপর ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর চারজনকে অভিযুক্ত করে ধুনট থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহিদুল হক চার্জশিট জমা দেন। সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

আইনজীবী আশিকুর রহমান সুজন জানান, তাবাচ্ছুম হত্যা মামলায় আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে তারা সন্তুষ্ট। তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

লেখক